৩রা শ্রাবণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার , জুলাই ১৮ ২০১৯
Breaking News
Home / জাতীয় / ভূরুঙ্গামারীতে আটককৃত ভারতীয় গরু সিন্ডিকেটে নিলামঃপ্রতিমাসে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

ভূরুঙ্গামারীতে আটককৃত ভারতীয় গরু সিন্ডিকেটে নিলামঃপ্রতিমাসে বিপুল পরিমান রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

অাজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃকুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পাচার হয়ে আসা গরু সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিলামে বিক্রয়। বিপুল পরিমান  রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, কাস্টমস কর্মকর্তা ও বিজিবির বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট তৈরির অভিযোগ। জানা গেছে, করিডোর ব্যবস্থা না থাকার পরেও প্রতিদিন উপজেলার ধলডাঙ্গা, শালঝোড়, পাথরডুবি, ময়দান, দিয়াডাঙ্গা, ভাওয়ালকুড়ি ও বাগভান্ডার সীমান্ত দিয়ে অবৈধ ভাবে ভারতীয় গরু বাংলাদেশে আসছে। পাচারকালে বিজিবি সীমান্তে এসব গরু আটক করতে না পারলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ উপেক্ষা করে মাঝে মধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ও বিভিন্ন ব্যক্তির বাড়ি থেকে কিছু কিছু ভারতীয় গরু আটক করে। অপর দিকে রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙ্গিয়ে অনেকেই ভারতীয় গরু আটক করে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা আটক গরু বিজিবির নিকট হস্থান্তর করে। পুলিশ ও বিজিবি ছাড়াও কয়েকজন ব্যক্তিকে প্রত্যেক হাটবারে উপজেলার বিভিন্ন সড়কে গরু আটক করতে দেখা যায়। সাধারন মানুষ তাদের পরিচয় জানেনা। ইদানিং ওই ব্যক্তিদের সাথে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত থানা পুলিশের এক/দুইজন পুলিশ সদস্যকে বসে থাকতে দেখা যায়। অনুসন্ধান ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই বাগভান্ডার বিজিবি ক্যাম্পে ৭টি বড় গরু ৫ লক্ষ টাকা সিজার মূল্য নির্ধারণ করে নিলামে তোলা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ৬ লক্ষ টাকা। গরুগুলো সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আঃ রউফ মোল্লা ২ লক্ষ ৬০ হাজার ৭’শ টাকায় ক্রয় করেন। অপর দিকে দিয়াডাঙ্গা ও ময়দান বিজিবি ক্যাম্পে ১৮টি গরু ৮ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা সিজার মূল্য নির্ধারণ করে নিলামে তোলা হয়। যার বাজার মূল্য প্রায় ১১ লক্ষ টাকা। যা দুই ব্যক্তির নিকট মাত্র ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। এছাড়া ২৯ জুন ধলডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্পে ১৭টি বাছুর নিলামে বিক্রি করা হয়।  যার সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ ৩০ হাজার  টাকা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মামুন ২ লাখ ২০ হাজার  টাকায় গরুগুলো নিলামে ক্রয় করেন। পরে ক্যাম্পের রাস্তাতেই স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীর নিকট ৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। ভাওয়ালকুড়ি বিজিবি ক্যাম্পে ২৮ জুন ১৬টি বাছুর গরু নিলামে বিক্রি করা হয়। সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ৪ লাখ টাকা। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রোকন ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫’শ টাকায় নিলামে গরুগুলো ক্রয় করেন। পরক্ষণেই গরুগুলো ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকায় গরু ব্যবসায়ী মকবুলের নিকট বিক্রি করেন। বাগভান্ডার বিজিবি ক্যাম্পে ২৬ জুন ৩টি গরুর নিলাম দেয়া হয়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায়  ২লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। গরুগুলোর সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। যা জাহাঙ্গীর মন্ডল ভ্যাট সহ ৯৪ হাজার ৫’শ টাকায় কিনে নেয়। পরে নিলামস্থলের কাছেই গরুগুলো ১ লক্ষ ৪৬ হাজার টাকায় স্থানীয় এক  গরু ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করেন। একই দিন দিয়াডাঙ্গা বিজিবি ক্যাম্প ৫টি বাছুর নিলামে বিক্রি করে। যার সিজার মূল্য ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।  পাথরডুবি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আঃ করিম গরুগুলো ভ্যাট সহ ৭৫ হাজার ৩৫০ টাকায় নিলামে কিনে নেন। নিলাম স্থলের কাছেই স্থানীয় এক গরু ব্যবসায়ীর নিকট ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করে।  অপরদিকে নিলাম আয়োজনকারী প্যান্ট হাউজ, রংপুর নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এলাকাবাসির অভিযোগ- কোন রকম প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই গোপনে নিলাম কার্য সম্পাদন করে প্রতিষ্ঠানটি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতিকালে একজন কাস্টমস কর্মকর্তা নিলাম কার্যক্রমে আসার পর থেকে কিছু অসাধু বিজিবি সদস্যের যোগসাজসে সিন্ডিকেটের কারণে প্রকৃত গরু ব্যবসায়ীরা নিলামের অংশ গ্রহণ করতে পারছে না। অভিযোগ রয়েছে দুটি সংস্থার কিছু অসাধু কর্মকর্তা গরু প্রতি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা নেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কাস্টমস কর্মকর্তা শাহ আলম মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিজিবির পক্ষ থেকে ক্যাম্পের আশে পাশে মাইকিং করা হয়। এতে কেউ যদি নিলামে অংশ গ্রহন না করে তা হলে তো আমাদের করা কিছু নাই ।এছাড়া নিরাপত্তার অভাবে সীমান্তবর্তী বিজিবি ক্যাম্পে গিয়ে অনেকেই নিলামে অংশ গ্রহণের সাহস পান না। এতে বাড়তি সুবিধা ভোগ করছে সিন্ডিকেটকারীরা। সচেতন মহলের দাবি বিষয়টি সম্পর্কে সরেজমিন তদন্ত স্বাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এখাত থেকে বিপুল পরিমান রাজস্ব আহরণ করা সম্ভব।

Facebook Comments

Check Also

শিশুদের পাশবিক অত্যাচার বন্ধে আইনকে আরও কঠোর করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদকঃ সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি ও শিশুদের ওপর পাশবিক অত্যাচারের বিরুদ্ধে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ …

১২জুলাই জাতীয়করণ দাবিতে প্রেসক্লাবে সমবেত হওয়ার উদাত্ত আহ্বান।

১২ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় উপস্থিত হোন দলে দলে জাতীয়করণ দাবিতে। বাশিস …

১২জুলাই মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় দলে দলে যোগ দিন

বাশিসের (নজরুল) নেতৃত্বে ১২ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও আলোচনা সভায় যোগ দিন। বাশিস নজরুল …

১২তারিখ মানববন্ধনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট আমার চাওয়া পাওয়া

১২ তারিখের মানববন্ধনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট অামার চাওয় পাওয়া ——মোহামামদ অালাউদ্দিন মাস্টার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের …

Skip to toolbar