৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
বুধবার , মে ২২ ২০১৯
Breaking News
Home / ২০১৯ / মে / ০৪

Daily Archives: মে ৪, ২০১৯

অধিকার প্রতিষ্ঠায় চাই ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন!

অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন চাই! বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা যে বৈষম্যের পাহাড়ের নিচে চাপা পরেছেন সেখান থেকে পরিত্রানের পথ বড়ই কঠিন। হাজার ও বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আজ বেসরকারী শিক্ষকরা এই অবস্থানে পৌঁছেছেন। বেসরকারী শিক্ষকদের অনেক বৈষম্য আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম আমার বিগত দুটি লেখনিতে। আজ আর বৈষম্য নিয়ে নাই বা লিখলাম।আজ লিখতে চেষ্টা করবো বৈষম্য থেকে পরিত্রানের উপায় নিয়ে। বেসরকারী শিক্ষকরা শিক্ষা ব্যবস্থার শুরু থেকেই নানা ধরনের বঞ্চনা গঞ্ছনার স্বীকার হয়ে আসছেন তা আর বলার অবকাশ রাখে না। স্বাধীনতা পরপর্তী এ দেশের বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য জাতীয় বেতন কাঠামোর আওতায় আসতে লেগেছিলো প্রায় একযুগ সময়।১৯৭১ সালের পরে নানা আন্দোলন কর্মসূচীর প্রেক্ষিতে ১৯৮১ সালে প্রথম বারের মত বেসরকারী শিক্ষক সমাজ জাতীয় পে-স্কেলের অর্ন্তভুক্ত হয়। যা মূল বেতনের মাত্র ৫০% হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৮১ সালের পরবর্তীতে সেই আন্দোলনের ধারাকে অব্যাহত রেখে দীর্ঘ ২৮ বছরের প্রচেষ্টায় ২০০৮ সালে বেসরকারী শিক্ষকরা শতভাগ মূল বেতন অর্জন করতে সক্ষম হয়।সাথে ২৫% উৎসব ভাতাও অর্জিত হয়।এবং ২০০০ পরবর্তী সময়ে শিক্ষকদের অবসর ও কল্যানের নামে গঠিত হয় অবসর ও কল্যানট্রাস্ট বোর্ড, যেখানে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজেদের চাঁদার বিনিময়ে তাদের অবসর ও কল্যানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যা আপাত দৃষ্টিতে শুভঙ্করের ফাঁকি ছাড়া আর কিছুই নয়। ২০০৯ পরবর্তী সময়ে শিক্ষকদের আন্দোলনের কর্মসূচী ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং শিক্ষক সংগঠনের সংখ্যাও বাড়তে থাকে, ফলে বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনের নামে নানা ধরনের বিশৃঙ্খল কর্মসূচী পালনের মাধ্যমে শিক্ষক-কর্মচারীদের ৫% ইনক্রিমেন্ট ও ২০% বৈশাখী ভাতা অর্জন করলেও সেই সাথে শিক্ষক কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০% থেকে ৯০% নেমে আসে। যা বর্তমান শিক্ষক-কর্মচারীদের মনে শুধু হতাশারই সৃষ্টি করেছে তা নয় তাদের মনে তীব্র ক্ষোভের ও সৃষ্টি করে। আজ আমাদের এই ছত্রভঙ্গ আন্দোলনই আমাদেরকে আবার ব্যাক ফুটে ঠেলে দিচ্ছে বলে আমি মনে করছি। আজ দেশ স্বাধীনের ৪ যুগ পরেও আমরা শিক্ষক সমাজ বৈষম্যের বেড়াজাল কাটতে পারলাম না কেনো?এটা আমাদের জন্য চরম অপমানের এবং অমর্যাদার বলে গোটা শিক্ষক সমাজ মনে করে। এর জন্য আমরা শিক্ষক সমাজও যে, কম দ্বায়ি তা নয়। আজ পর্যন্ত আমরা একটা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে পারলাম না কেনো? এই প্রশ্ন আমি গোটা শিক্ষক সমাজের উপরেই রাখলাম। তাই আমি আজ গোটা শিক্ষক সমাজের সকল সংগঠনের সকল নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আর্কষন করে বলছি, পবিত্র রমজান মাসে আমরা নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে সকল শিক্ষক মিলে একটা ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলতে সংঘবদ্ধ হওয়ার সবোর্চ্চ চেষ্টা করি।এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের সর্ব-বৃহৎ ঐক্য বদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলে নিজেদের অধিকার জাতীয়করণ আদায় করে নেওয়ার মাধ্যমে জাতি গঠনে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করি। আমাদের সবার উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য যদি একই হয়, তাহলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে বাধা কোথায় নিজেদের অধিকার আদায়ে আমাদের ভূমিকাই যদি প্রশ্ন বিদ্ধ হয় তাহলে আমরা দাবি আদায় করবো কিভাবে? তাই আসুন আমরা সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধরে এবং জাতির জনকের ৭ ই মার্চের ভাষণকে সামনে রেখে আমরা প্রতিটি বিদ্যালয়ে এক একটি দূর্গ গড়ে তুলি। আমরা আমাদের সকল ইগো, হতাশাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একটা দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলি এবং নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করি। জয় বাংলা ********* জয় বঙ্গুবন্ধু। মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন (আপন)। সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি(নজরুল), চট্টগ্রাম বিভাগ।

Read More »