৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
বুধবার , মে ২২ ২০১৯
Breaking News
Home / ২০১৯ / মে / ০২

Daily Archives: মে ২, ২০১৯

বৈষম্যের পাহাড়ে চাপা এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষক পর্ব-২!

বৈষম্যের পাহাড়ে চাপা এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষক পর্ব-২! গত একটি লেখায় আমি এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষকদের কয়েকটি বৈষম্য তুলে ধরার প্রয়াস করেছিলাম।আজ আরো দু-একটি বৈষম্য তুলে ধরার চেষ্ট করছি। আজ প্রথমেই বাড়ী ভাড়ার বিষয়টি আমি সংক্ষেপে একটু ব্যাখ্যা করতে চাই।যদিও আমি আগের লেখায় বাড়িভাড়ার বিষয়টি লিখেছিলাম কিন্তু বিষয়টি আরো একটু স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করছি। সরকারী সকল চাকুরীজীবি স্থান ভেদে বাড়িভাড়া পেয়ে থাকেন তার মূল বেতনের ৪৫% থেকে ৬০% যেমন একজন সরকারী চাকুরীজীবি প্রত্যন্ত গ্রামীন অঞ্চলে হলে বাড়িভাড়া পেয়ে থাকেন ৪৫% আবার যদি পার্বত্য এলাকায় চাকরী করেন তখন বাড়িভাড়া পেয়ে থাকেন ৬০%। এভাবে জেলা শহর, বিভাগীয় শহর,রাজধানী শহর বিভিন্ন জায়গায় বাড়িভাড়া বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।সেখানে এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে পিয়ন পর্যন্ত সবাই পেয়ে থাকেন ১০০০ টাকা এখানে কোনো % অনুসরন করা হয় না। এর পর আমি বলবো উৎসব ভাতার কথা। আজ থেকে এক যুগের বেশি সময় ধরে শিক্ষকরা উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন।কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন তার মূল বেতনের ২৫% আর কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন মূল বেতনের ৫০%। ফলে দেখা যায় একজন ১২৫০০ বা টাকা ১৬০০ টাকা স্কেলের একজন শিক্ষক ৮২৫০ স্কেলের একজন পিয়নের চেয়ে কম টাকা উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। যা তার উপর মর্যাদার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। ২৫% উৎসব ভাতায় একজন শিক্ষকের পক্ষে কি তার পরিবার পরিজন নিয়ে উৎসব পালন করা সম্ভব এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেশের কর্তা ব্যক্তিদের বিবেকের কাছেই ছেড়ে দিলাম!একজন শিক্ষক ৩০০০টাকা বা ৪০০০ টাকায় কি একটি নূন্যতম পশু ক্রয় করতে পারবেন সে প্রশ্নও রইলো জাতির বিবেকের নিকট। এর পরে আসি রেশিয় বা অনুপাত প্রথা প্রসংগে, একই যোগ্যতা নিয়ে দুই জন প্রভাষক যখন একই দিনে একই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে ৯ম গ্রেডে অর্থাৎ ২২০০০ টাকার বেতন স্কেলে চাকুরী শুরু করেন তখন দুজনেরই তো একই স্বপ্ন থাকে চাকরীতে পদোন্নতি নিয়ে। অনুপাত প্রথার বেড়াজালে পরে এবং অযোগ্য গর্ভনিং বডির অদক্ষায় তুলনামূলক ভালো শিক্ষকটি যখন ৯ম গ্রেডেই রয়ে যায়,তখন তুলনামূলক কম দক্ষ বা একই যোগ্যতা সম্পন্ন অন্য শিক্ষকটি ৮ বা ১২ বছরের অভিজ্ঞতায় ৬ষ্ঠ গ্রেড প্রাপ্ত হয়ে যান, তখন কি তার সহকর্মী তার কার্যক্রমে আর আগের মত উদ্দীপ্ত বা উৎজীবিত ভাবে কাজ করতে পারেন?এতো বৈষম্য শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকবেকেনো? দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছরেও কেনো আমাদের এতো বৈষম্য থাকতে হবে? আমরা এতো বৈষম্য চাই না, আমরা স্বাধীন জাতি আমাদের সম যোগ্যতা সম্পন্ন প্রত্যেকটি চাকুরীজীবির সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্টের দায়িত্ব নয় কি? আজ আর বৈষম্য লিখবো না। শুধু জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাদার অব হিউম্যনেটি দেশ রত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিনীত অনুরোধ করবো কোনো ষড়যন্ত্রলারী আমলা-কামলা যেনো কিছুতেই আপনার বাবার স্বপ্নকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে সকল শিক্ষা ব্যবস্থাকে একযোগে জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে,ডিজিটাল দেশ গড়ার কাজ আরো গতিশীল করবেন। এবং দেশের সকল শিক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী করতে আপনার সুদক্ষ নেতৃত্বের আরো উন্মেষ ঘটুক এবং আপনার সু-সাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মত এখানেই শেষ করছি। জয় বাংলা ************ জয় বঙ্গবন্ধু। মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন (আপন)। সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিত, চট্টগ্রাম বিভাগ।

Read More »

শিক্ষা ব্যবস্থায় সরকারি নীতিমালায় ই অরাজকতা তৈরি করছে-ফিরোজ আলম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বুদ্ধিমান লোকেরা একবারই অপমান সহ্য করে,আর মহান হলে হয়ত একাধিক।কিন্তু জ্ঞানপাপী মূর্খ আর সাধারন মূর্খরা বারবারই অপমান সহ্য করে।এটির প্রমান বহু রাজনৈতিক আর প্রশাসনিক নেতার মাঝেই রয়েছে।শিক্ষক সমাজ তার ঠিক উল্টো।তারা অতিশয় মহান বিধায় একাধিকবার অপমান সহ্য করে এখনো স্থিরবদ্ধ রয়েছে।না হলে অনৈতিক,অন্যায় ৪% অতিরিক্ত কর্তন অমানবিক জেনে …

Read More »

ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’ মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে।

বিশেষ প্রতিবেদকঃ ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’ মোকাবেলায় বাংলাদেশ প্রস্তুত রয়েছে। ভারতের উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘ফনি’ আঘাত হানার পর কিছুটা দুর্বল হয়ে আগামী ৪ মে বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে। তাই এটি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এই সঙ্গে উপকূলের সব আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: বাগেরহাট: উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা প্রবল …

Read More »

বৈষম্যের পাহাড়ে চাপা এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষকরা:

বৈষম্যের পাহাড়ে চাপা এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষকরা! বেসরকারী শিক্ষকদের মুক্তি যে সহজে হবার নয় তা বলার আর অবকাশ নাই।সারা দিন, সারা বছর লিখতে থাকলেও তাদের বৈষম্য লিখা শেষ হবার নয়। তবুও লিখতে যখন শুরু করছি অন্তত কয়েকটি বৈষম্য তুলে ধরার প্রয়াস করছি, যদি কখনো,কোনো একদিন রাষ্টের কর্ণধরদের কারো দৃষ্টি গোচর হয়। প্রথমেই সর্বশেষ ঘোষিত পে-স্কেল দিয়ে শুরু করি।সর্বশেষ ঘোষিত পে-স্কেলে বেসরকারী শিক্ষদের সম্পূর্ণরুপে বঞ্চিত করার অপ্রয়াস ও নেহায়েত কম ছিলো না।দীর্ঘ আন্দোলনের আট মাস পরে বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা পে-স্কেলের অন্তর্ভুক্ত হয়। পে-স্কেলে ঘোষিত বার্ষিক ৫% প্রবৃদ্ধি কার্যকর হয় জুলাই/২০১৬ থেকে শুধু বঞ্চিত থেকে যায় বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা।দীর্ঘ দুই বছর সংগ্রাম করে ২০১৮ সালে অর্জিত হয় আকাঙ্ক্ষিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধি।যার বিগত দুই বছরের বকেয়া বাদ দিয়ে কার্যকর করা হলো। এর পরে ঘোষিত হলো প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বৈশাখী ভাতা/২০১৭ থেকে। সেখানেও বঞ্চিত করা হলো বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদেরকে।এবারেও দুই বছর আন্দোলন,সংগ্রাম করে ২০১৯ সালে বৈশাখী ভাতার মুখ দেখতে পায় বেসরকারীরা তাও আবার বৈশাখের এক সপ্তাহ পরে এবং বিগত দুই বছেরর বকেয়া বাদ দিয়েই। ২০১৮ সালে ৫% বার্ষিক প্রবৃদ্ধি দেওয়ার আট মাস পরেই আবার অবসর কল্যানের নাম করে বেসরকারী দের অনুদান থেকে অতিরিক্ত ৪% কর্তনও করে নেওয়া হয়। যার ফলে দেখা যায় তাদের বেতন ভাতা আগের জায়গায় রয়ে যায়।প্রবৃদ্ধি ঘোষিত হলেও প্রকৃত পক্ষে তারা সুবিধা বঞ্চিত হলো ৪% কর্তনের মাধ্যমে। এর পরে টাইমস্কেল থেকে বঞ্চিত করা হলো হাজার হাজার বেসরকারীদের। যার ফলে বড় ধরনের বৈষম্যের স্বীকার হতে হলো নিরীহ টাইমস্কেল বঞ্চিতদের।এছাড়া পদন্নতিতে আনা হলো ব্যাপক পরিবর্তন যে কারনে অনেকে আইনের বেড়াজালে আটকা পড়লো পদন্নতি নামক সোনার হরিণ থেকে। এর পরে বলবো বাড়ি ভাড়ার কথা বেসরকারী শিক্ষক- কর্মচারী সবাই বাড়ি ভাড়া পান মাত্র এক হাজার টাকা।যেখানে প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে শুরু করে ঝাড়ুদার পর্যন্ত সবাই সমান।হাজার টাকায় বাড়িভাড়া এ দেশের কোথায়ও আছে বলে অন্তত আমার জানা নাই। আমিও আমার এলাকা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে একটা বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকরী করছি। যেখানে বাড়ি ভাড়া বাবদ প্রতিমাসে গুনতে হয় কম পক্ষে ৮/ ১০ হাজার টাকা।এছাড়া বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীরা সবাই চিকিৎসা ভাতা পায় ৫০০ টাকা। এছাড়াও আরো অনেক বৈষম্য লিখা যাবে, তবে আজ আর লিখলাম না। বাঁকী বৈষম্য গুলো না হয় আর একদিন তুলে ধরার চেষ্টা করবো। আজ যে বৈষম্য গুলো তুলে ধরেছি এতো গুলো বৈষম্য বুকে নিয়ে একজন শিক্ষক কি করে আশানুরুপ পাঠদান করবেন সে কথা আমি এ দেশের বিশিষ্ট জনদের উপরেই ছেড়ে দিলাম।আমাদেরও তো পরিবার পরিজন আছে, তাদেরকেও তো ভরনপোষণের দায়িত্ব আমাদেরকেই নিতে হয়। এ পর্যন্ত শিক্ষকরা যা পেয়েছে তা আন্দোলনের মাধ্যমেই পেয়েছে।এ থেকেই বোঝা যায় আগামী দিনেও আন্দোলন ছাড়া কিছু আদায় করা মনে হয় অত্যন্ত কষ্টকর। তার পরেও আমি বলবো বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করে সকল বেসরকারী শিক্ষা ব্যবস্থা এক যোগে জাতীয়করণের ঘোষনা দিয়ে শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করে পুরো শিক্ষক সমাজকে কৃতজ্ঞতা পাশে আবদ্ধ করবেন। জয় বাংলা জয়বঙ্গু বন্ধু। মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন (আপন)। সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, চট্টগ্রাম বিভাগ।

Read More »