দৈনিক শিক্ষা খবর

৬ মাসের ডিপ্লোমায় সুপারিশপ্রাপ্তদের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ

২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রথম নিয়োগ চক্রে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিয়ে নিয়মিত পাঠদান করছেন তিন শতাধিক শিক্ষক। কিন্তু নতুন নীতিমালায় নিয়োগের যোগ্যতা পরিবর্তন হওয়ায় তারা এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না। তাদের এমপিও জটিলতা নিরসনে প্রথম নিয়োগ চক্রে এনটিআরসিএর সুপারিশকৃত আইসিটি শিক্ষকদের তথ্য চেয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এসব শিক্ষকের তথ্য পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

জানা গেছে, গত ৩০ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও এনটিআরসিএর চেয়ারম্যানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রথম নিয়োগ চক্রে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়ে নিয়মিত পাঠদান করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী শিক্ষকদের তথ্য চেয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তথ্য পাঠানোর জন্য এসব শিক্ষকের তথ্য চাওয়া হয়েছে। ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রথম নিয়োগ চক্রে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিয়ে নিয়মিত পাঠদান করছেন এমন শিক্ষকদের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের। আজ বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত চিঠি সব জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে এসব শিক্ষকদের তথ্যে দুইসেট হার্ডকপি ও সফটকপি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের।  

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানায়, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রথম নিয়োগ চক্রে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে এনটিআরসিএর সুপারিশ পাওয়া শিক্ষকদের নাম, যোগদানের তারিখ ও যোগদানের করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছিল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও এনটিআরসিএর চেয়ারম্যানকে। 

এদিকে এনটিআরসিএ সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানায়, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুসারে প্রথম নিয়োগ চক্রে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ৬ মাসের ডিপ্লোমা প্রশিক্ষণ সনদ নিয়ে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন ১ হাজার ৪৭ জন প্রার্থী। এদের মধ্যে ৩৪৪ জন শিক্ষক যোগ দিয়ে নিয়মিত পাঠদান করছেন বলে জানা গেছে। আদালতের রায়ের প্রেক্ষিতে তাদের নিয়োগ সুপারিশ করা হয়েছিল।

জানা গেছে, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তি অনুসারে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগ দিয়ে নিয়মিত পাঠদান করা ৩৪৪ জন শিক্ষকের এমপিওভুক্তির জটিলতা নিরসনে গত ১৮ এপ্রিল অধিদপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠিয়েছিল বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। 

ভুক্তোভাগী শিক্ষকরা জানান, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে এনটিআরসিএ প্রকাশিত শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি অনুসারে আবেদন করেছিলেন অনেক প্রার্থী। কিন্তু আইনি জটিলতায় আটকে যায় তাদের নিয়োগ সুপারিশ। জটিলতা নিরসন হলে গত ডিসেম্বরে ১ হাজার ৯৫ জনকে বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের সুপারিশ করে এনটিআরসিএ। এর মধ্যে ১ হাজার ৪৭ জনকে সুপারিশপত্র দেয়া হয়। তবে তাদের মধ্য থেকে তিন শতাধিক প্রার্থী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেন। যাদের মধ্যে অনেকেই ৬ মাসের ডিপ্লোমা ডিগ্রি নিয়ে কম্পিউটার বিষয়ের সহকারী শিক্ষক পদে যোগদান করেছেন। 

জানা গেছে, ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে জারি করা এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোতে ৬ মাসের ডিপ্লোমায় কম্পিউটার শিক্ষক পদে যোগদানের সুযোগ ছিল। কিন্তু ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের জারি করা হয় নতুন এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো। নতুন সেই এমপিও নীতিমালায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে কম্পিউটার বিজ্ঞান বা কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি অথবা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড হতে ৩ বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা-ইন-কম্পিউটার সায়েন্স বা সমমান শিক্ষাগত যোগ্যতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সৃষ্টি হয়েছে জটিলতা। ৬ মাসের ডিপ্লোমায় যোগদান করায় এসব শিক্ষকের এমপিও আবেদন আঞ্চলিক উপপরিচালকরা ইএমআইএস সেলে অগ্রায়ন করছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। 

এনটিআরসিএ সূত্র দৈনিক শিক্ষাডটকমকে আরও জানায়, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও মামলার কারণে নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রম যথাসময়ে সম্পন্ন করা হয়নি। মামলা সম্পন্ন হয়ে গেলে ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে রায়ের আলোকে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো নির্দেশিকা মোতাবেক ফল চূড়ান্ত করা হয়। মামলার রায় অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি বা সমমান এবং সরকার অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান থেকে কম্পিউটার বিষয়ে ন্যূনতম ৬ মাসের প্রশিক্ষণ গ্রহণযোগ্য হয়। সে প্রেক্ষিতে কম্পিউটার বিষয়ে ৬ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষণধারীরাও নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এ মামলার রায় অনুযায়ী ব্যবস্থা কেবলমাত্র ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের প্রার্থীদের বেলায় প্রযোজ্য হবে, তার পরবর্তীদের বেলায় নয়। 

এদিকে অধিদপ্তরগুলোতে চিঠি পাঠিয়ে মামলার রায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রেক্ষিতে ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দের সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের বেলায় মামলার রায়ের মতে কার্যক্রম গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ করেছিল এনটিআরসিএ।