Tue. Jan 28th, 2020

দৈনিক শিক্ষা খবর

শিক্ষা মন্ত্রী, সচিব ও ডিজির নিকট ইনডেক্সধারীর খোলা চিঠি -শিক্ষা খবর।।

শ্রদ্ধেয় মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী, উপমন্ত্রী মহোদয়, সচিব মহোদয়, যুগ্ম সচিব মহোদয় ও ডিজি মহোদয়ের সমীপে……
প্রথমে সালাম রইলো…. আমরা সকলে জানি শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড..শিক্ষা ছাড়া জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারে না..আর এই জাতি গড়ার হাতিয়ার হলো বিশ্বের শিক্ষক সমাজ..পৃথিবীর অনেক দেশেই শিক্ষক হলো সর্বোচ্চ সম্মানের পাত্র।তাদের কদর অনেক বেশি এবং তারা সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করে অন্যান্য চাকরিজীবীর চেয়ে উত্তমরূপে। কিন্তু আমার সোনালী বাংলার চিত্র সম্পূর্ণভাবে উল্টা..শিক্ষক হলো সবচেয়ে অবহেলার পাত্র..
বিশেষ করে দেশের বেসরকারি শিক্ষক সমাজ…
কিন্তু এই জাতির সিংহভাগ শিক্ষাদানে কর্মরত এই এমপিওভুক্ত শিক্ষক সম্প্রদায়।
অাধুনিক বিজ্ঞান,প্রযুক্তির যুগে সমসাময়িক বিশ্বে
সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে…সকল কিছু না থাকা,না পাওয়ার পরও তাকে নানান অভিনয়ে মত্ত থাকতে হয় সব কিছু থাকার…স্বল্প বেতন ভাতায় তাকে সন্তান-সন্ততি,স্ত্রী ও মা-বাবা নিয়ে মানবেতর জীবন অতিবাহিত করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত…..

আর নাই বদলি,বাড়িভাড়া,উৎসবভাতা। প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন/বদলি না থাকার কারণে শিক্ষকদের নানা কর্মে একঘেয়েঁমি চলে আসে….এক প্রতিষ্ঠানে থেকেই তার চাকরি জীবন শেষ করতে হয়…বেসরকারি শিক্ষক সমাজের একটা বিরাট অংশ নিজ জেলা বা নিজ বিভাগের বাহিরে চাকরি করছে..তাদের নিজ জেলা থেকে ৭০০-৮০০ কিলোমিটার দূরে চাকরি করছে…. মা বাবা,ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তান -সন্ততি রেখে চাকরি করছে মানবেতর ভাবে…কোন আত্নীয়-স্বজন মারা গেলে পারে না তাদের শেষ বিদায়ের বেলায় সঠিক সময়ে উপস্থিত হতে…পারে না তাদের বাড়ির সকল কাজে অংশগ্রহণ করতে…প্রতিষ্ঠানে যখন ছুটি শেষে আসার সময় হয়ে যাই তখন শিক্ষকের মন অনেকটা ছোট হয়ে যাই আর সকলের মায়া কাটতেই চায় না…সন্তান যখন বলে আব্বু তুমি আবার কবে আসবা,,তখন যেন মনে হয় নিজেই নিজেকে কবর দিয়ে ফেলি..আর দূরের শিক্ষক হিসেবে স্থানীয় শিক্ষকের প্রভাব তো আছেই..তা মুখ বুজে সহ্য করে নিতে হয় নতশিরে….এককথায় হাজার মাইল দূরে এক মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছে এই জাতি গড়ার কারিগড়…..
আমার জানামতে বাংলার সকল স্তরের চাকরিজীবীর বদলি প্রথা চালু আছে….কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নীতিমালায় থাকা সত্ত্বেও কোন এতো অবহেলা…..এই শিক্ষক জাতি জানতে চায় তার কারণ কি?
ডিজিটাল বাংলাদেশে এই বৃহত্তর শিক্ষক সম্প্রদায় কে এ্যানালগ রেখে সফল জাতি বিনির্মাণ সম্ভব হবে না…তা ভাবলে মনে করবো সরকারের মিশন ভিশন সবই ব্যর্থ হবে….

তাই সরকারের মন্ত্রী, সচিব,ডিজি মহোদয়গণ আপনারা বেসরকারি শিক্ষক সম্প্রদায়ের মনে হাজার বছর বেঁচে থাকতে হলো এই প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন/বদলি প্রথার প্রজ্ঞাপণ জারি করুন…
সারা জীবন আপনাদের কথা মনে রাখবো….
শিক্ষায় সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য ও প্রাণচঞ্চলতাময় ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষে বদলি প্রথা জরুরী….শিক্ষকের মানসিক তৃপ্তির জন্য নিজ জেলায়/উপজেলায় প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন/বদলি প্রথার প্রজ্ঞাপণ জারি করুন…..প্লিজ……
করজোড়ে বলছি……..
প্লিজ
মাননীয় শিক্ষা মন্ত্রী,উপমন্ত্রী,সচিব ও ডিজি স্যার।

লেখক
নাজির হোসেন
সহকারী শিক্ষক(ইংরেজি)ও

জেলা সমন্বয়ক ও সদস্য,

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি বাস্তবায়ন কমিটি।