৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
বৃহস্পতিবার , মে ২৩ ২০১৯
Breaking News
Home / এনটআরসিএ / শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে নামছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে নামছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

দেশের বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে নামছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মূলত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দুর্নীতি, শিক্ষকদের অনুপস্থিতি হাতেনাতে ধরতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আদলে আকস্মিক এ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অভিযানে প্রাপ্ত শিক্ষকদের উপস্থিতি, তাৎক্ষণিক ক্লাস রুমের পরিবেশ, লাইব্রেরি, টয়লেটসহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়াদি নিয়ে প্রতিবেদন আকারে মন্ত্রণালয়কেও অবহিত করা হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি সাপেক্ষে তাৎক্ষণিক শোকজ করতে পারবে টিম। পরবর্তীতে দোষী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে এমপিও বাতিলসহ কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সুপারিশ করবে। এরই প্রেক্ষিতে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে এমন তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন উইংয়ের পরিচালক প্রফেসর সেলিম মিয়া বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশে গত ৬ই মার্চ রাজধানী কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক একটি অভিযান চালানো হয়। এতে একটি স্কুলে মর্নিং শিফটের ৩৩ জন শিক্ষকদের মধ্যে ১৪ জনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন আকারে মন্ত্রণালয়কে জানানো পর তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে বলা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

বুধবার রাজধানীর দুটি স্কুলে আকস্মিক পরিদর্শনে যান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) কর্মকর্তারা। এ সময় রাজধানীর গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলের মর্নিং শিফটের ৩৩ শিক্ষকের মধ্যে ১৪ জনকেই অনুপস্থিত দেখতে পেয়েছেন। অন্যদিকে মোহাম্মদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৭ জন শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন।

অধিদপ্তরের পরিচালক (মনিটরিং ও ইভালুয়েশন) অধ্যাপক ড. মো. সেলিম মিয়া বৃহস্পতিবার বলেন, পরিদর্শন প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব শিক্ষককে কারণ দর্শানো হবে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মোহাম্মদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুন্নাহারের দাবি, ‘ব্যবহারিক পরীক্ষা থাকায় অনুপস্থিত ১৭ জন শিক্ষককে ছুটি দিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই তারা প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত।’ যদিও ব্যবহারিক পরীক্ষায় শিক্ষকদের এভাবে ছুটি দেয়ার কোন এখতিয়ার প্রধান শিক্ষকের নেই। যদি এমনটাই হয় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে রাজধানীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আকস্মিক পরিদর্শনের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর। এ কমিটিতে রয়েছেন অধিদপ্তরের মনিটরিং ও ইভালুয়েশন শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সেলিম মিয়া। কমিটিতে আরও রয়েছেন উপপরিচালক সেলিনা জামান, মনিটরিং অফিসার মো. রোকনুজ্জামান, সহকারী পরিচালক লাইলুন নাহার এবং মনিটরিং অফিসার নজরুল ইসলাম।

কর্মকর্তারা জানান, শিক্ষার অনিয়ম-দুর্নীতি ধরতে নানা উদ্যোগের পরও নতুন কৌশলে দুর্নীতির জাল বিস্তার করছে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। উন্নয়ন ও শিক্ষার মান প্রকল্পের নামে চলে অনিয়ম-দুর্নীতি। এসব অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ এবং শিক্ষার মান বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গঠন করা হয়েছে ‘সমন্বিত পরীবিক্ষণ ও মূল্যায়ন নীতিমালা-২০১৯’। এর আওতায় ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে শিক্ষা খাতের আর্থিক, প্রশাসনিক, একাডেমিক, নিয়োগ, এমপিও, টিউশন ফি এবং উপবৃত্তিসহ বড় ৩০ ধরনের অনিয়ম ধরা পড়বে। পুরো কাজটি করবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের ‘মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং’ (এমইডব্লিউ)। সমপ্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সোহরাব হোসাইনের নেত্বত্ব বৈঠকে নতুন এ সেলের অনুমোদন দেয়া হয়।

কর্মকর্তারা বলছেন, শিক্ষা প্রশাসনে নাড়া দেয়ার মতো একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরজমিন এবং কখনো তাৎক্ষণিক পরিদর্শন করবেন কর্মকর্তারা। এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইটে প্রতিদিন যে তথ্য দেবে তার সঙ্গে গরমিল পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করবেন কর্মকর্তা। এছাড়া মাউশির বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অবস্থা জানতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা তাৎক্ষণিক পরিদর্শন করবেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রজ্ঞাপন, নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের থাকবেন কর্মকর্তারা। তাদের মনিটরিং করা হবে ঢাকায় বসে। এজন্য এমইডব্লিউ সনাতন পদ্ধতির পাশাপাশি কম সময়ের মধ্যে একটি ওয়েব বেইজড মনিটরিং সিস্টেম চালু করবে।

Check Also

শতভাগ ফেল করেছে ১০৭ টি প্রতিষ্ঠান এবং শতভাগ পাস করেছে ২৫৮৩ টি প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চলতি বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষায় ১০৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাই …

মাধ্যমিকে পাশের হার ৮২.২০ জিপিএ-৫ ১০৫৫৯৪

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাশের হার ৮২.২০ জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০৫৫৯৪ জন শিক্ষার্থী। আগের …

২৭৬২ প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হচ্ছে, ঘোষণা শিগগিরই

নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সুখবর দিলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়। দুই হাজার সাতশ বাষট্টিটি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য যোগ্য বিবেচিত …

বৈষম্যের পাহাড়ে চাপা এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষক পর্ব-২!

বৈষম্যের পাহাড়ে চাপা এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষক পর্ব-২! গত একটি লেখায় আমি এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষকদের কয়েকটি বৈষম্য তুলে ধরার প্রয়াস করেছিলাম।আজ আরো দু-একটি বৈষম্য তুলে ধরার চেষ্ট করছি। আজ প্রথমেই বাড়ী ভাড়ার বিষয়টি আমি সংক্ষেপে একটু ব্যাখ্যা করতে চাই।যদিও আমি আগের লেখায় বাড়িভাড়ার বিষয়টি লিখেছিলাম কিন্তু বিষয়টি আরো একটু স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করছি। সরকারী সকল চাকুরীজীবি স্থান ভেদে বাড়িভাড়া পেয়ে থাকেন তার মূল বেতনের ৪৫% থেকে ৬০% যেমন একজন সরকারী চাকুরীজীবি প্রত্যন্ত গ্রামীন অঞ্চলে হলে বাড়িভাড়া পেয়ে থাকেন ৪৫% আবার যদি পার্বত্য এলাকায় চাকরী করেন তখন বাড়িভাড়া পেয়ে থাকেন ৬০%। এভাবে জেলা শহর, বিভাগীয় শহর,রাজধানী শহর বিভিন্ন জায়গায় বাড়িভাড়া বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।সেখানে এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে পিয়ন পর্যন্ত সবাই পেয়ে থাকেন ১০০০ টাকা এখানে কোনো % অনুসরন করা হয় না। এর পর আমি বলবো উৎসব ভাতার কথা। আজ থেকে এক যুগের বেশি সময় ধরে শিক্ষকরা উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন।কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন তার মূল বেতনের ২৫% আর কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন মূল বেতনের ৫০%। ফলে দেখা যায় একজন ১২৫০০ বা টাকা ১৬০০ টাকা স্কেলের একজন শিক্ষক ৮২৫০ স্কেলের একজন পিয়নের চেয়ে কম টাকা উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। যা তার উপর মর্যাদার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। ২৫% উৎসব ভাতায় একজন শিক্ষকের পক্ষে কি তার পরিবার পরিজন নিয়ে উৎসব পালন করা সম্ভব এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেশের কর্তা ব্যক্তিদের বিবেকের কাছেই ছেড়ে দিলাম!একজন শিক্ষক ৩০০০টাকা বা ৪০০০ টাকায় কি একটি নূন্যতম পশু ক্রয় করতে পারবেন সে প্রশ্নও রইলো জাতির বিবেকের নিকট। এর পরে আসি রেশিয় বা অনুপাত প্রথা প্রসংগে, একই যোগ্যতা নিয়ে দুই জন প্রভাষক যখন একই দিনে একই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে ৯ম গ্রেডে অর্থাৎ ২২০০০ টাকার বেতন স্কেলে চাকুরী শুরু করেন তখন দুজনেরই তো একই স্বপ্ন থাকে চাকরীতে পদোন্নতি নিয়ে। অনুপাত প্রথার বেড়াজালে পরে এবং অযোগ্য গর্ভনিং বডির অদক্ষায় তুলনামূলক ভালো শিক্ষকটি যখন ৯ম গ্রেডেই রয়ে যায়,তখন তুলনামূলক কম দক্ষ বা একই যোগ্যতা সম্পন্ন অন্য শিক্ষকটি ৮ বা ১২ বছরের অভিজ্ঞতায় ৬ষ্ঠ গ্রেড প্রাপ্ত হয়ে যান, তখন কি তার সহকর্মী তার কার্যক্রমে আর আগের মত উদ্দীপ্ত বা উৎজীবিত ভাবে কাজ করতে পারেন?এতো বৈষম্য শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকবেকেনো? দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছরেও কেনো আমাদের এতো বৈষম্য থাকতে হবে? আমরা এতো বৈষম্য চাই না, আমরা স্বাধীন জাতি আমাদের সম যোগ্যতা সম্পন্ন প্রত্যেকটি চাকুরীজীবির সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্টের দায়িত্ব নয় কি? আজ আর বৈষম্য লিখবো না। শুধু জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাদার অব হিউম্যনেটি দেশ রত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিনীত অনুরোধ করবো কোনো ষড়যন্ত্রলারী আমলা-কামলা যেনো কিছুতেই আপনার বাবার স্বপ্নকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখে সকল শিক্ষা ব্যবস্থাকে একযোগে জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে,ডিজিটাল দেশ গড়ার কাজ আরো গতিশীল করবেন। এবং দেশের সকল শিক্ষা ব্যবস্থা যুগোপযোগী করতে আপনার সুদক্ষ নেতৃত্বের আরো উন্মেষ ঘটুক এবং আপনার সু-সাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে আজকের মত এখানেই শেষ করছি। জয় বাংলা ************ জয় বঙ্গবন্ধু। মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন (আপন)। সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিত, চট্টগ্রাম বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

three × 1 =