২৩শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
রবিবার , ডিসেম্বর ৮ ২০১৯
Breaking News
Home / এমপিও / মুজিব বর্ষে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার জাতীয়করণের ঘোষণা চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

মুজিব বর্ষে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার জাতীয়করণের ঘোষণা চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর। যার তুলনা তিনি নিজেই। বাঙালি জাতিকে নিয়ে তার স্বপ্ন ঘেরা জীবন ছিল। 
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল শোষণ বঞ্চনা মুক্ত, ক্ষুধা দ্রারিদ্র মুক্ত  সমাজ ব্যবস্থা,সকলের মুখে হাসি ফুটানো,  সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করে বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে উপহার দেওয়া। কিন্তু এই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ নেয়ার আগেই কিছু বিপদগামী সেনা সদস্য সেই স্বপ্ন দ্রষ্টাকে হত্যা করে।অসমাপ্ত রয়ে গেল সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন এবং সকলের মুখে হাসি ফুটানো।  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সারাক্ষণ চিন্তা করতেন সোনার বাংলা গড়ার। বাঙালি জাতিকে সমান সুযোগ সুবিধার আওতায় আনার। সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ঘেরা জীবন। তারই সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা বাবার স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দেওয়ার জন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন।  বাংলাদেশ আজ আস্তে আস্তে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় পরিণত হচ্ছে। আজ বাংলাদেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে গেছে এবং উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দ্বিতীয়। দেশ এখন দারিদ্র্যতার অভিশাপ থেকে প্রায় মুক্ত। অর্থনৈতিক ভাবে এবং খাদ্যে দেশ এখন  স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা আশা করি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের যুক্ত করবেন।   মুজিব বর্ষে আমাদের স্বপ্নের জাতীয়করণের ঘোষণা দিয়ে বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে উপহার দিবেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপ দিবেন। 
স্বাধীনতার স্বপ্ন পুরুষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূর্ণাঙ্গ রুপ দিতে প্রয়োজন বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য বিরাজমান থাকলে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না। শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্যের অবসান চাই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক সমাজ। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের  পরিবর্তন হয়েছে শুধু সরকারি অংশের পে – স্কেল সহ  পূর্বের  বাড়ি ভাড়া বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০০০ টাকা, চিকিৎসা ভাতা করা হয়েছে ৫০০ টাকা। সেই ২০০৪ সাল থেকে শুরু হলো  ২৫ শতাংশ উৎসব ভাতা।  সেই উৎসব ভাতা  এক যুগেরও বেশি সময় অতিবাহিত হচ্ছে তার হলো না কোন পরির্বতন। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের টাইমস্কেল ছিল তাও বিলুপ্ত করা হয়েছে। বর্তমান সময়ে টাইমস্কেলের পরিবর্তে উচ্চতর গ্রেড পাবে তারও কোন বাস্তবায়ন হচ্ছে না। শিক্ষকরা এ নিয়েও শংকিত তা বাস্তবায়ন হবেতো নাকি শুভংকরের ফাঁকি।চাকরি শেষে নেই পেনশনের সুযোগ সুবিধা। সীমাহীন দুঃখ কষ্টের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করতে হয় অবসরপ্রাপ্তের শেষ সময়টুকু। নেই বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি প্রথা, নেই সন্তানদের শিক্ষা ভাতা, নেই হাউজ লোন।  বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে  কচ্ছপ গতিতে। বর্তমান সময়ে দেশ এগুচ্ছে পরিবর্তনের স্লোগান নিয়ে। দেশ এখন ডিজিটাল যুগে পৌঁছে গেছে। ডিজিটাল হচ্ছে প্রতিটি সেক্টর। কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা রয়ে গেল এনালগ যুগে। দেশের সার্বিক দিক বিবেচনা করলে দেখা যাচ্ছে শুধু শিক্ষা সেক্টরেই বৈষম্য বিরাজমান। আর প্রতিটি সেক্টরের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। শুধু আটকে গেল বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের যেখানে চাকরি শুরু সেখানেই শেষ। নির্দিষ্ট গন্ডির বাইরে যাবার উপায় নেই। বন্দী দশায় কাটাতে হয় চাকরি জীবন।  জাতীয়করণই সকল বৈষম্যের অবসানের পথ। জাতীয়করণ ছাড়া বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মুক্তি নাই। সমগ্র বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আয় ব্যয়ের হিসেব সরকার বুঝে নিয়ে জাতীয়করণ করলে লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে না। তবুও অবহেলিত রয়ে গেল বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।  বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবন  বৈষম্যের বেড়াজালে পিষ্ট । বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাস্তব জীবন হলো সমস্যায় জর্জরিত।  বছরের পর বছর একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার ফলে দুর্বিষহ হয়ে উঠে জীবন যাপন।   যেখানে জাতীয়করণের মাধ্যমে নতুন পরিবেশে নতুন অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হয়। অভিজ্ঞতাই এনে দিতে পারে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন। শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতিতে আনতে পারে পরিবর্তন। শিক্ষিত জাতি দেশের উন্নয়নের রুপকার । শিক্ষিত জাতি গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে  শিক্ষক সমাজ । শিক্ষা ব্যবস্থায় তাই  শিক্ষকদের ওপর   সবচেয়ে বেশি  গুরুত্ব দেওয়া উচিত। বিশ্বের প্রতিটি দেশেই শিক্ষকদের দেওয়া হয় সর্বোচ্চ মর্যাদা এবং মানসম্মত সুযোগ সুবিধা। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় তা সম্পূর্ণ বিপরীত। সরকারি এবং বেসরকারি এই দুই ভাগে বিভক্ত। সরকারিরা পায় পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা আর বেসরকারিরা পায় নাম মাত্র। সরকারি শিক্ষকরা বাড়ি ভাড়া পায় মূল স্কেলের ৪০-৬০ শতাংশ পর্যন্ত অপর দিকে বেসরকারি শিক্ষকরা পায় নাম মাত্র ১০০০ টাকা, সরকারি শিক্ষকরা চিকিৎসা ভাতা পায় ১৫০০ টাকা আর বেসরকারি শিক্ষকরা পায় ৫০০ টাকা, সরকারি শিক্ষকরা উৎসব ভাতা পায় ১০০ শতাংশ আর বেসরকারি শিক্ষকরা পায় ২৫ শতাংশ। সরকার ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দিয়ে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আশার আলো দেখিয়ে ছিল। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন সেই ইনক্রিমেন্ট থেকেও বর্তমানে অতিরিক্ত ৪ শতাংশ হারে কর্তন করা হচ্ছে অবসর ও কল্যান তহবিলের নামে। এখন সরকারি অংশের সিংহভাগ কর্তনেই চলে যাচ্ছে ভবিষ্যতের জন্য। বর্তমানে কর্তন করা হচ্ছে সরকারি অংশের ১০ শতাংশ হারে। শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাণ ফিরে আনতে প্রয়োজন বৈষম্য মুক্ত  সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। শিক্ষা ব্যবস্থায়  জাতীয়করণ  একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি পেশায় আছে পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা।  শুধু বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় নেই পূর্ণাঙ্গ সুযোগ সুবিধা ।শিক্ষার মান উন্নয়নে জাতীয়করণ জরুরি।  জাতীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান পদ্ধতি পরিবর্তন সম্ভব। শিক্ষা ব্যবস্থায় আসবে আমুল পরিবর্তন। একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার ফলে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হয় না। জাতীয়করণের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা যাচাই করা সম্ভব হবে। নতুন পরিবেশে পাঠদান পদ্ধতির পূর্বের  ভুল গুলো সংশোধন করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করার সুযোগ সৃষ্টি হবে যা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   বেশি দিন একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার ফলে শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করে। আর এই হতাশার প্রভাব পড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর।  আমরা বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকারি অংশ বা অনুদান সহ যে সামান্য বাড়ি ভাড়া পাই তা দিয়ে সংসারের ভরনপোষণ করাই কঠিন হয়ে পড়ে। সংসার চালানোর টাকা জোগাড় করতে হিমসিম খাচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।  শিক্ষকদের জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন ছাড়া শিক্ষার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ এই যে, আপনি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রাণের দাবি জাতীয়করণ মুজিব বর্ষে  বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়ে বেসরকারি শিক্ষকদের বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ায় অর্ন্তভুক্ত করবেন।  
ধন্যবাদান্তে মোঃ আবুল হোসেনসিনিয়র যুগ্ম – মহাসচিব বাশিস (কেন্দ্রীয় কমিটি)

Facebook Comments

Check Also

এমপিওভুক্ত করা হতে পারে তিন হাজার প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অন্তত তিন হাজার বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হতে পারে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে …

বেসরকারী শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের বিষয়টি গনদাবিতে পরিণত হচ্ছেঃ

বেসরকারী শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের বিষয়টি ধীরে গণদাবিতে পরিনত হচ্ছেঃ শিক্ষা জাতীয়করণের বিষয়টি পর্যায়ক্রমে যাদের থেকে দাবী আসছে,তাঁরা হচ্ছেন সাবেক শিক্ষা সচিব ড.এন আই খান,প্রফেসর সিরাজুল হক,ডিসি মহোদয়গণ আগমাী ১৪ ই জুলাই ডিডি সম্মেলনে মাধ্যমিক স্কুল জাতীয়করণের সুপারিশ করবেন ও সর্বশেষ রাজশাহী-৪ (বাঘমারা) আসনের সুযোগ্য এম,পি ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক। আশা করি এভাবেই একে একে সকল শিক্ষাবিদ ,বুদ্ধিজীবি,সাধারণ নাগরিকসহ ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব এগিয়ে আসবেন এবং অচিরেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয়করণের যথার্থতা উপলব্ধি করে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক যোগে জাতীয়করণের ঘোষণা দিবেন সেই মহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষা শিক্ষক সম্প্রদায়সহ গোটা জাতি। জয় বাংলা ★★★★★ জয় বঙ্গবন্ধু। মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন(আপন) সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি( নজরুল) চট্টগ্রাম বিভাগ।

নবসৃষ্ট পদে নিয়োগের আদেশ জারি

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বেসরকারি স্কুল কলেজের এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুসারে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত ১৬টি পদে নিয়োগের …

পাল্টে যাচ্ছে শিক্ষাক্রম

দৈনিকশিক্ষাখবর ডেস্কঃ শিক্ষাক্রমে আবারো পরিবর্তন আসছে। প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চলমান শিক্ষাক্রমের ভুলত্রুটি সংশোধন, …