দৈনিক শিক্ষা খবর

ভূরুঙ্গামারীতে শিক্ষক ও সুপারভাইজারদের বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ


অাজিজুল হক,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পে (৬৪ জেলা) নিযুক্ত সুপারভাইজার ও শিক্ষকরা তাদের নিয়োগপত্র ও বকেয়া বেতনের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলায় কর্মরত মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের প্রায় ৫শ শিক্ষক ও ১৫ জন সুপারভাইজার বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অংশ গ্রহণ করেন। তারা এসময়  শিক্ষক ও সুপারভাইজার পদের নিয়োগপত্র প্রদান সহ ৬ মাসের বকেয়া বেতন প্রদানের দাবী জানান। প্রকল্পে কর্মরত সুপারভাইজার মনিরুজ্জামান মন্টু ও শিক্ষক শাহিন, মোবারক, কামরুল জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাস্তবায়নকারী সংস্থা ছিন্ন মুকুল বাংলাদেশ উপজেলায় দশটি ইউনিয়নে ১৫ জন সুপারভাইজার ও ৬শ জন শিক্ষক নিয়োগ দেয়। প্রকল্পটি গত বছরের ডিসেম্বর মাসে শুরু হয়ে চলতি বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা। কিন্ত বিলম্বে শুরু হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ সেপ্টেম্বর মাসের ২২ তারিখ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদ একেবারে শেষ হয়ে এলেও নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সুপারভাইজারদের নিয়োগপত্র ও বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হয় নাই। শুধু তাই নয় অনুসাঙ্গিক খরচ যেমন-ঘর ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল,সাইন বোর্ড ও শিক্ষা উপকরণ এখন পর্যন্ত বিতরণ করা হয়নি। এছাড়া তারা আরো জানায়, বেতন না পাওয়ার ভয় দেখিয়ে ইতিমধ্যে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকার বিল ভাউচারে স্বাক্ষর নেয়া হলেও কোন অর্থ কিংবা মালামাল প্রদান করা হয়নি। জানা গেছে এনজিওটির পূর্বের পরিচালক সমুদয় টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এ কারণে তাকে এনজিও থেকে বহিস্কার করে নতুন নির্বাহী পরিচালক দিলরুবা খানমকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।  মঙ্গলবার শিক্ষক ও সুপারভাইজারদের বেতন দেয়ার কথা থাকলেও ৭ হাজার দুইশত টাকার স্থলে প্রত্যেককে তিন হাজার করে টাকা প্রদানের সিদ্ধান্তে শিক্ষকরা উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট তাদের অভিযোগ জানায়।  ভূরুঙ্গামারী উপজেলা মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, নিয়োগপত্র প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এনজিও ছিন্ন মুকুল বাংলাদেশের দেবার কথা। বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে।  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএইচএম মাগফুরুল হাসান আব্বাসী জানান, বিষয়টি মিমাংসা করা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এনজিওকে নিয়োগ পত্র প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। প্রকল্পের পর্যালোচনা শেষে তাদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে।