দৈনিক শিক্ষা খবর

ভূরুঙ্গামারীতে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের হ-য-ব-র-ল অবস্থা

অাজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ “শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ,  শেখ হাসিনার বাংলাদেশ”- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয়ের উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর আওতায়  সারাদেশে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্প (৬৪ জেলা) বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় চলতি বছরের প্রথম দিকে প্রকল্পটি শুরু হলেও  কয়েক মাস যেতে না যেতেই  নানাবিধ সমস্যায় প্রকল্পের কার্যক্রম মুখ থুবরে পড়েছে। 
জানা যায়, ভূরুঙ্গামারীর ১০টি ইউনিয়নে ৩০০ টি শিখন কেন্দ্র, ৬০০ জন শিক্ষক ও ১৫ জন সুপার ভাইজার নিয়ে চলতি বছরের ২৩ মার্চ এই প্রকল্পটি চালু হয়। প্রায় পাঁচ মাস অতিক্রান্ত হলেও উক্ত প্রকল্পে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক ও সুপার ভাইজাররা আজ পর্যন্ত  কোন বেতন পাননি। দীর্ঘ দিন বেতন বিহীন চাকুরী করতে করতে বর্তমানে নিস্ক্রীয় হয়ে পড়েছেন তারা। এছাড়াও পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ না থাকা,  নিয়মিত মনিটরিং না করা, কেন্দ্রের ঘর ভাড়া পরিশোধ না করা ও সাম্প্রতিক বন্যা সহ নানাবিধ কারনে বর্তমানে প্রকল্পটি শুধু মাত্র কাগজে কলমে টিকে আছে।
বেতন বঞ্চিত শিক্ষক ও সুপারভাইজাররা বেতন ছাড়ের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে  উপজেলা প্রকল্প পরিচালক এর কার্যালয়ে ভীড় করেও কোন ফল পাচ্ছেন না ।  উল্লেখ্য, শুধুমাত্র ভূরুঙ্গামারী উপজেলা বাদে দেশের সকল উপজেলায় ইতোমধ্যে এ প্রকল্পে নিয়োজিত শিক্ষক ও সুপারভাইজারদের বেতন ছাড় দেয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী শিক্ষক ও সুপারভাইজারদের   দাবি,  প্রকল্প পরিচালক ও প্রসাশনের অবহেলার কারণেই তারা বেতন পাচ্ছেন না।  
শিলখুড়ী ইউনিয়নের,  ০৩ নং ওয়ার্ডে কর্মরত শিক্ষক ফারুক আহমেদ জানান, সারা দেশে বেতন পাওয়ার খবর শুনেছি। এখানে বেতন ছাড়া কেউ আর চাকুরী করতে চাচ্ছেন না।   কেন্দ্রগুলোর ঘর ভাড়া দীর্ঘদিন বকেয়া থাকায় ঘর মালিকরাও কেন্দ্রগুলো আর ব্যবহার করতে দিতে চাচ্ছেন না। এই ব্যাপারে আরও দু-একজনের সাথে কথা হলে তারাও প্রকল্পটির অচলাবস্থার জন্য প্রকল্প পরিচালক ও প্রসাশনের অবহেলাকে দায়ী করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
 খবর নিয়ে জানা যায়, জেলা প্রসাশক মহোদয় প্রকল্পটির অগ্রগতি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন চেয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রায় একমাস আগে একটি চিঠি প্রেরণ করেছেন। প্রতিবেদনটি পাঠালেই বেতন ছাড় হওয়ার কথা। ভূরুঙ্গামারী উপজেলার প্রকল্প পরিচালক আনিসুর রহমান  জানান আশাকরি  চলতি মাসের ০৮ তারিখের মধ্যে আমরা বেতন ছাড় করতে সক্ষম হব। শিক্ষকরা বেতন না পাওয়ায় প্রকল্পের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পরেছে বলে তিনি স্বীকার করেন।  ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাগফুরুল হাসান আব্বাসী বলেন, কিছু সমস্যার কারণে এ প্রকল্পের বেতন এখনো ছাড় করানো যায়নি। তবে মানবিক কারণে হলেও আমরা ঈদের আগে তাদের বেতন ছাড় করানোর জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্থা ছিন্নমুকুল বাংলাদেশ, কুড়িগ্রাম এর সহকারী পরিচালক জানান, শিখন কেন্দ্রগুলো বন্ধ হওয়ার খবর সত্য নয়।  তবে বন্যার কারণে কিছু কেন্দ্রের কার্যক্রম স্থগিত থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। শিক্ষা উপকরনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৫০% শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে।  বাকীটা ঈদের পরেই সরবরাহ করা হবে।