৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার , জুন ১৮ ২০১৯
Breaking News
Home / জাতীয় / ভূরুঙ্গামারীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, রাবার বুলেট ও লাঠি চার্জঃ আহত ২৫

ভূরুঙ্গামারীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ, রাবার বুলেট ও লাঠি চার্জঃ আহত ২৫

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে মটর শ্রমিকদের সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় ৭.৩০মিনিটে ভূরুঙ্গামারী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এই ঘটনা ঘটে। স্থনীয় ও প্রত্যক্ষ দর্শী সূত্রে জানাগেছে- ভূরুঙ্গামারী থানার এ এস আই আমিনুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সিভিল পোষাকে এক জন আসামি ধরে নিয়ে আসার সময় ভূরুঙ্গামারী বাস টার্মিনালে জ্যামের মধ্যে অাটকা পড়ে। পুলিশের গাড়ির সামনে দাড়িয়ে থাকা সদর ইউনিয়নের ছাত্রলী সহ সভাপতি আরিফের কাছে সাইট চাইলে জ্যামের কারণে আরিফ অপরাগতা প্রকাশ করে। তখন একজন পুলিশ কনস্টেবল তেড়ে এসে আরিফের নাকে ঘুষি মারলে আরিফ তার মটর সাইকেল থেকে পড়ে যায়। এতে আরিফের নাক ফেটে রক্ত বের হতে থাকে। তা দেখে স্থানীয় জনতা প্রতিবাদ জানালে সাধারণ পোষাকের পুলিশ সদস্যদের সাথে বাগ বিতন্ডতাশুরু হয়। এ সময় উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের (৩১৪) এর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করলে পুলিশ মিজানের সাথে খারাপ আচরণ করে। এতে অন্যান্য শ্রমিক নেতাসহ স্থানীয় জনতা ক্ষীপ্ত হয়ে সাধারণ উক্ত পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে এই খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা থেকে ১৪/১৫ জন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছলে মটর শ্রমিক ও স্থানীয় লোকদের সাথে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একাধিক রাবার বুলেট ছোড়ে ও নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে। থেমে থেমে প্রায় ঘন্টা ব্যাপি এই সংঘর্ষ চলে। পরে শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে ভূরুঙ্গামারী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করে ঢাকাগামী কোচ সহ সকল ধরণের যানবাহন বন্ধ করে দেয়। এঘটনায় ঢাকাগামী যাত্রী,পথচারী ও মটর শ্রমিক সহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়। আহতেদের ভূরুঙ্গামারী সদর হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। যার মধ্যে গুরুত্বর অবস্থায় নয় জনকে ভূরুঙ্গামারী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ এএসএম সায়েম জানান ০৯ জনের অবস্থা গুরুত্বর হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আর কয়েকজনকে প্রথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আহতরা হলেন আমির আলী (৬০) মানিক মিয়া(২৮) আঃ কাদের(৬০) বাবু(২৯) সুশান্ত(২১) আঃ রহমান (৫০) প্রমুখ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান জানান পুলিশ আমার সাথে খারাপ আচরণ করলে মটর শ্রমিক ও স্থানীয় জনতা এর প্রতিবাদ করে। কিন্তু পুলিশ সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বল প্রয়োগ করে হামলা চালায়। পরে খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুন্নবী চৌধুরী খোকন ও ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি রেজাওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ঘটনা স্থলে ছুটে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি ইমতিয়াজ কবির সংর্ঘষের সত্যতা স্বীকার করেন। কিন্তু, রাবার বুলেট ছোড়ার ঘটনা অস্বীকার করে বলেন শ্রমিকদের সাথে সংঘটিত ঘটনার বিষয়টি উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

Facebook Comments

Check Also

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বজ্রবৃষ্টি “স্পার্ক” – আবহাওয়া অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শক্তিশালী বজ্রবৃষ্টি ‘স্পার্ক’ বা ফুলকি ধেয়ে আসছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফেসবুকে দেয়া তথ্যে …

ভূরুঙ্গামারীতে বিভিন্ন পেশার ১০ জন প্রতিভাবান ব্যক্তির মাঝে পুরুস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা

    অাজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পাইকেরছড়া ইউনিয়নের আমেরিকান প্রবাসী আজিজুল হাসান এর আয়োজনে সৎ …

প্রধান শিক্ষক রাসেলের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিতঃ হামলাকারীর শাস্তির দাবি

অাজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর ছিট পাইকেরছড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম …

শিক্ষকই শিক্ষার মেরুদন্ড! তাই এখনই হোক সকল বৈষম্য মুক্ত।

শিক্ষকই শিক্ষার মেরুদন্ড! আমরা সব সময় বলি শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষিত জাতি ছাড়া যেমন দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা সম্ভব নয় তেমন শিক্ষিত জাতি ছাড়া উন্নত দেশ ও জাতি গঠনও সম্ভব নয়।উন্নত জাতি গঠনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে শিক্ষিত জন শক্তি তৈরী করা। সেটা করতে জাতিকে যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে জাতিকে উন্নত ও কাঙ্খিত রাষ্ট্র গঠন করতে। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক। সকল শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক।মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ করতে না পারলে এক সময় শিক্ষার মান এমন এক স্তরে গিয়ে পৌছাবে,যেখান থেকে এ দেশ তথা জাতিকে উন্নত দেশ গঠনের স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে সেটা আর কখনো বাস্তবে রুপ লাভ করতে সক্ষম হবে না।যেটা হবে সেটা হচ্ছে এক ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা। যার ফলশ্রুতি হবে এক হতাশা গ্রস্ত জাতি যে জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা নিচু করে কুর্নিশ করবে গোটা বিশ্বকে আর নিজেদের ভাববে এক অসহায় জাতি হিসেবে এবং কলংকিত বোধ করবে জাতি হিসেবে। আসলে আমরা কি সেই কলংকিত জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা কুর্নিশ করে থাকতে চাই নাকি বিশ্ব দরবারে নিজেদের মাথা উঁচু করে জাতি হিসেবে অহংকার করতে চাই।সেটা ভাবার সময় এসেছে আর দেরী করা চলবে না।সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে ব্যাক্তি হিসেবে যেমন কেউ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, তেমনি জাতি হিসোবেও সফল জাতিতে পরিনত হওয়া যায় না।যে জাতি নিজেদের ভাষার জন্য প্রাণ দিতে কুন্ঠিত হয় না, যে জাতি স্বাধীনতার জন্য অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে পারে সে জাতি কি আজ এতো সহজে হেরে যেতে পারে? জাতিকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্রের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা নেত্রীগণ। শিক্ষিত জাতি গড়ার জন্য দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ করাও রাষ্ট্রের কর্তব্য।দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিতে সবাগ্রে প্রয়োজন বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।আর বৈষম্য মুক্ত শিক্ষ ব্যবস্থা করতে হলে সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরী। সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে না পারলে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা সম্ভব নয়।আর শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরী করতে না পারলে উন্নত জাতি গঠন কখনোই সম্ভব নয়। শিক্ষাই যদি শিক্ষার মেরুদন্ড হয় তাহলে তো শিক্ষকই শিক্ষার মেরুদন্ড!আর সেই শিক্ষকদের অবহেলিত রেখে কি উন্নত জাতি গড়া সম্ভব? নানা অবহেলা,বঞ্চনা,নিপীড়ন,নির্যাতন সহ্য করে কিভাবে একজন শিক্ষক নিজেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দিবেন? আজও একজন শিক্ষকের উৎসব ভাতা সিকি,বাড়ী ভাড়া হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা,টিফিন ভাতা,ঝুকি ভাতা, ছেলেমেয়েদের শিক্ষাভাতা থেকে একেবারেই বঞ্চিত!কেনো আজও এতো বৈষম্যের স্বীকার শিক্ষার কারিগররা কি দোষ তাদের? উন্নত জাতি গড়াই যাদের মহান ব্রত,তাদের পরিবার পরিজন বলে কি কিছু থাকতে নাই নাকি থাকে না? এই প্রশ্ন রইলো জাতির বিবেকের নিকট? এই জন্যই কি জাতির জনক দেশ স্বাধীন করেছিলেন? শিক্ষকদের অভুক্ত রেখে কি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন? জাতির জনকের স্বপ্ন কি আজও পূরণ করার সময় হয়নি? বৈষম্য মুক্ত জাতি গঠনের আর কত দেরী পাঞ্জেরী? তাই আমি বর্তমান সময়ের সুযোগ্য নেত্রী জাতির পিতার তনয়া মাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে বিনীত ভাবে অনুরোধ করবো। স্বাধীন বাংলার সকল বৈষম্য মুক্ত করতে, উন্নত দেশ ও জাতি গঠন করতে, জাতির পিতার স্বপ্ন সত্যি করতে এবং শিক্ষিত জাতি গড়তে ২০১৯/২০ অর্থ বাজেটেই সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের বাজেট রেখে জাতিকে বৈষম্য মুক্ত করবেন বলেই আমি প্রত্যাশা রাখছি। জয় বাংলা ★★★★★ জয় বঙ্গবন্ধু। লেখক ও কলামিস্ট মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন (আপন), সহকারী প্রধান শিক্ষক। ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ( নজরুল), চট্টগ্রাম বিভাগ।

Skip to toolbar