৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার , জুন ১৮ ২০১৯
Breaking News
Home / জাতীয় / বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা চাই:

বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা চাই:

বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থাই জাতীয় উন্নয়নের মূলধন!

দেশের সকল ক্ষেত্রে যখন উন্নয়নের জয়জয়কার তখন শিক্ষা ক্ষেত্রে নানা বৈষম্য বিরাজমান।যত উন্নয়নই আমরা করি না কেনো,যদি মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে না পারি তাহলে কোনো উন্নয়নই এ দেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে পারবে না।

এক মাত্র মানসম্মত শিক্ষাই একটি জাতিকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।যে দেশের জনগোষ্ঠি যত বেশি শিক্ষিত সেই দেশ বিশ্বে তত উন্নত জাতি বা রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

এখন দেখি মানসম্মত শিক্ষা অর্জন কিভাবে সম্ভব।বর্তমান এ দেশে টেকসই ও উন্নত শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন,শিক্ষার্থী বৃত্তি,উপবৃত্তি চালু আছে।এছাড়া সম্প্রতি শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফিস ও সকল পাবলিক ও প্রতিষ্ঠান পরীক্ষার ফিস প্রদানের কর্মসূচীর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।যা অবশ্যই জাতির জন্য আশার সঞ্চার করে এবং প্রশংসার দাবিদার এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ থাকার সুযোগ নাই।

শিক্ষা উন্নয়নের যত বাজেট তা কেবল এ দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থী উন্নয়নের নামে ভোগ করছে এ দেশের সুবিধাভোগী ধ্বনিক শ্রেণির একটি মহল। যেটা কখনোই এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার শতভাগ উন্নয়ন সম্ভব তো নয়ই বরং অসম্ভবও বটে।যারা শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে জড়িত রয়েছেন তাদের সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি না করে,তাদের জীবন মানের উন্নয়ন না ঘটিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন হাজার বছরেও বদলানো সম্ভব নয়।এই সহজ কথাটা আমাদের রাষ্ট্রের কর্ণধরদের বুঝতে আর কতকাল লাগবে সেটি জাতির বিবেকের প্রশ্ন।আজ এ দেশের জেলা প্রশাসকরা যেখানে শিক্ষার মানোয়ন্নয়নে মাধ্যমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণের প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পবা তৈরী করছেন তখনও কেনো সরকারের মধ্যে থেকে এমন প্রস্তাব উঠছে না??

সরকার যখন দেশ উন্নয়নের জন্য, নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতু তৈরী করার কাজ অনেকটা এগিয়ে যাচ্ছে,মহাকশে স্যাটেলাইট প্ররণে সফল হয়েছে,রুপপুরের ম্যাগা বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে, তাহলে এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই বেহাল দশা থেকে উত্তোরণের জন্য সকল শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজে এত গড়িমসি কিসের?

শত প্রতিকূলতার মাঝেও যে দেশ মানবতার উজ্জল দৃষ্টান্ত ১০/১২ লক্ষ রোহিঙ্গাদের পূনর্বাসন করতে পারে। যে অর্জন দেশনেত্রীকে বিশ্ব মায়ের খেতাব এনে দিতে পারে। সেই নেত্রীর আর একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ কি এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের মাধ্যমে উন্নত শিক্ষার ভিত তৈরী করে দিতে পারে না? আমি মনে করি অবশ্যই পারে। একমাত্র মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাই শিক্ষা ক্ষেত্রে বিরাজমান সকল সমস্যার সনাধান করে, এ দেশের শিক্ষক সমাজ কে একটা মানসম্মত জীবন ও শিক্ষাবান্ধব রাষ্ট্র উপহার দিতে পারেন।

তাই আর কাল ক্ষেপণ না করে চলতি বাজেটেই সকল বৈষম্যের অবসান ঘটাতে, শিক্ষকদের হতাশা থেকে মুক্তি দিতে, দেশকে উন্নত বিশ্বে তাল মিলাতে সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট বিনীত অনুরোধ রইলো।

মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন (আপন),
সাধারন সম্পাদক,
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি,
চট্টগ্রাম বিভাগ।

Facebook Comments

Check Also

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বজ্রবৃষ্টি “স্পার্ক” – আবহাওয়া অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শক্তিশালী বজ্রবৃষ্টি ‘স্পার্ক’ বা ফুলকি ধেয়ে আসছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফেসবুকে দেয়া তথ্যে …

ভূরুঙ্গামারীতে বিভিন্ন পেশার ১০ জন প্রতিভাবান ব্যক্তির মাঝে পুরুস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা

    অাজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পাইকেরছড়া ইউনিয়নের আমেরিকান প্রবাসী আজিজুল হাসান এর আয়োজনে সৎ …

প্রধান শিক্ষক রাসেলের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিতঃ হামলাকারীর শাস্তির দাবি

অাজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর ছিট পাইকেরছড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম …

শিক্ষকই শিক্ষার মেরুদন্ড! তাই এখনই হোক সকল বৈষম্য মুক্ত।

শিক্ষকই শিক্ষার মেরুদন্ড! আমরা সব সময় বলি শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষিত জাতি ছাড়া যেমন দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা সম্ভব নয় তেমন শিক্ষিত জাতি ছাড়া উন্নত দেশ ও জাতি গঠনও সম্ভব নয়।উন্নত জাতি গঠনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে শিক্ষিত জন শক্তি তৈরী করা। সেটা করতে জাতিকে যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে জাতিকে উন্নত ও কাঙ্খিত রাষ্ট্র গঠন করতে। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক। সকল শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক।মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ করতে না পারলে এক সময় শিক্ষার মান এমন এক স্তরে গিয়ে পৌছাবে,যেখান থেকে এ দেশ তথা জাতিকে উন্নত দেশ গঠনের স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে সেটা আর কখনো বাস্তবে রুপ লাভ করতে সক্ষম হবে না।যেটা হবে সেটা হচ্ছে এক ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা। যার ফলশ্রুতি হবে এক হতাশা গ্রস্ত জাতি যে জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা নিচু করে কুর্নিশ করবে গোটা বিশ্বকে আর নিজেদের ভাববে এক অসহায় জাতি হিসেবে এবং কলংকিত বোধ করবে জাতি হিসেবে। আসলে আমরা কি সেই কলংকিত জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা কুর্নিশ করে থাকতে চাই নাকি বিশ্ব দরবারে নিজেদের মাথা উঁচু করে জাতি হিসেবে অহংকার করতে চাই।সেটা ভাবার সময় এসেছে আর দেরী করা চলবে না।সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে ব্যাক্তি হিসেবে যেমন কেউ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, তেমনি জাতি হিসোবেও সফল জাতিতে পরিনত হওয়া যায় না।যে জাতি নিজেদের ভাষার জন্য প্রাণ দিতে কুন্ঠিত হয় না, যে জাতি স্বাধীনতার জন্য অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে পারে সে জাতি কি আজ এতো সহজে হেরে যেতে পারে? জাতিকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্রের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা নেত্রীগণ। শিক্ষিত জাতি গড়ার জন্য দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ করাও রাষ্ট্রের কর্তব্য।দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিতে সবাগ্রে প্রয়োজন বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।আর বৈষম্য মুক্ত শিক্ষ ব্যবস্থা করতে হলে সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরী। সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে না পারলে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা সম্ভব নয়।আর শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরী করতে না পারলে উন্নত জাতি গঠন কখনোই সম্ভব নয়। শিক্ষাই যদি শিক্ষার মেরুদন্ড হয় তাহলে তো শিক্ষকই শিক্ষার মেরুদন্ড!আর সেই শিক্ষকদের অবহেলিত রেখে কি উন্নত জাতি গড়া সম্ভব? নানা অবহেলা,বঞ্চনা,নিপীড়ন,নির্যাতন সহ্য করে কিভাবে একজন শিক্ষক নিজেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দিবেন? আজও একজন শিক্ষকের উৎসব ভাতা সিকি,বাড়ী ভাড়া হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা,টিফিন ভাতা,ঝুকি ভাতা, ছেলেমেয়েদের শিক্ষাভাতা থেকে একেবারেই বঞ্চিত!কেনো আজও এতো বৈষম্যের স্বীকার শিক্ষার কারিগররা কি দোষ তাদের? উন্নত জাতি গড়াই যাদের মহান ব্রত,তাদের পরিবার পরিজন বলে কি কিছু থাকতে নাই নাকি থাকে না? এই প্রশ্ন রইলো জাতির বিবেকের নিকট? এই জন্যই কি জাতির জনক দেশ স্বাধীন করেছিলেন? শিক্ষকদের অভুক্ত রেখে কি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন? জাতির জনকের স্বপ্ন কি আজও পূরণ করার সময় হয়নি? বৈষম্য মুক্ত জাতি গঠনের আর কত দেরী পাঞ্জেরী? তাই আমি বর্তমান সময়ের সুযোগ্য নেত্রী জাতির পিতার তনয়া মাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে বিনীত ভাবে অনুরোধ করবো। স্বাধীন বাংলার সকল বৈষম্য মুক্ত করতে, উন্নত দেশ ও জাতি গঠন করতে, জাতির পিতার স্বপ্ন সত্যি করতে এবং শিক্ষিত জাতি গড়তে ২০১৯/২০ অর্থ বাজেটেই সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের বাজেট রেখে জাতিকে বৈষম্য মুক্ত করবেন বলেই আমি প্রত্যাশা রাখছি। জয় বাংলা ★★★★★ জয় বঙ্গবন্ধু। লেখক ও কলামিস্ট মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন (আপন), সহকারী প্রধান শিক্ষক। ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ( নজরুল), চট্টগ্রাম বিভাগ।

Skip to toolbar