Wed. Jan 22nd, 2020

দৈনিক শিক্ষা খবর

বৈষম্য, নির্যাতন,নিপীড়নের যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেতে বেসরকারী শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ অপরিহার্যঃ-

মোঃ মোকাররম হোসেন আপুনঃ শুরুতেই শ্রদ্ধা নিবেদন করছি,স্বাধীন বাংলার স্থপতি,বাঙালী হৃদয়ের স্পদন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী,বিশ্ববন্ধু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে।

বাঙালী জাতি যখন স্বাধীনতার সুবর্নজয়ন্তি উদযাপনের পরিকল্পনায় বিভোর, ঠিক এমনি এক মহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে শুধু বেদনা আর হতাশার অথৈ সাগর গহীনে হারিয়ে যেতে বসেছে এ দেশ গড়ার ৯৭ % অবদান রাখা এম,পিও ভুক্ত শিক্ষক সম্প্রদায়ের জাতীয়করণের স্বপ্ন।

যে স্বপ্ন নিয়ে জাতির স্বপ্ন দ্রষ্টা বৈষম্য মুক্ত দেশ গড়ার যে স্বপ্ন এঁকেছিলেন, সেই স্বপ্ন আজ বাংলার মাটিতে ভুলুন্ঠিত হতে চলেছে। যে স্বপ্ন নিয়ে এ দেশেকে শত্রুমুক্ত করে স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন, সেই স্বাধীন দেশে আজ শিক্ষা ক্ষেত্রে পাহাড়সম বৈষম্য বিরাজ করছে।

আজও এ দেশ গড়ার কারিগররা সরকারী কোষাগার থেকে বেতন পায় না, পায় অনুদান! আর এই অনুদান পাওয়া যায় প্রতিমাসের ১৫-২০ তারিখে আজ বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার শিক্ষকরা উৎসব ভাতা পায় ২৫%, বাড়িভাড়া পায় এক হাজার টাকা,চিকিৎসা ভাতা পায় পাঁচশত টাকা,নাই কোনো পেনশন ব্যবস্থা,নাই টাইম স্কেল,নাই অর্জিত ছুটি ভাতা,নাই তাদের সন্তানদের শিক্ষা ভাতা, নাই টিফিন ভাতা,নাই বদলী ব্যবস্থা,১০% কর্তনের বিনিময়ে আছে নাম মাত্র অবসর ও কল্যান ভাতা। যে কল্যান আর অবসর ভাতা ৯০% শিক্ষক বেঁচে থাকতে তুলতে পারেন না। এখানে এতো জটিলতা যে ঘুরতে ঘুরতে পায়ের পাতা পর্যন্ত ক্ষয়ে যায় তবু ভাতার দেখা আর হয় না। অবশেষে ধুকে ধুকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে এ দেশের বেশির ভাগ এম,পিও,ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী।এ দুঃখের করুন কাহিনী আজ কারো বিবেককে নাড়া দেয় না, শিক্ষকরা যেনো আজ এ জাতির তামাসার পাত্র!

উন্নত দেশ গড়তে এ দেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী,জাতির জনকের কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা একের পর এক উন্নয়নের মহাপরিল্পনা নিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছেন। নিজের অর্থায়নে মহাকাশে স্যাটেলাইট প্রেরণ করেছেন, পদ্ম সেতুর কাজ সমাপ্তির পথে, রুপপুর মেগা বিদ্যুত প্রকল্পে চলছে হরিলুট, সাতশত কোটি টাকা ব্যয়ে শিক্ষাটিভি স্থাপনের বাজেট প্রনয়ণ হচ্ছে। শুধু বাদ থেকে যাচ্ছে এম,পিও, ভুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করার পরিকল্পনা।

বই পুস্তকে পড়েছি কোনো দেশ বা জাতি উন্নত করতে হলে সে দেশের শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করা প্রয়োজন সবার আগে।শিক্ষিত জাতি তৈরী করতে পারলে সে দেশ উন্নত হতে বাধ্য।আর শিক্ষিত জাতি গড়তে বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য।কিন্তু এ দেশ আজ শিক্ষা বাদ দিয়ে উন্নতির মহাপরিকল্পনায় ব্যস্ত!দেশ ডিজিটাল হবে শিক্ষা বাদ দিয়েই! এসব হাস্যকর পরিকল্পনা কারা কি উদ্দেশ্যে করছে সেটি যদি এখনো ক্ষতিয়ে না দেখা হয় তাহলে অদুর ভবিষ্যতে এ দেশ নিরক্ষর জাতিতে পরিণত হবে সেটি আর বলার অবকাশ রাখে না!

তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে বলবো, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি, পরীক্ষার ফিস কিংবা টিউশন ফিস বা শিক্ষাটিভি দিয়ে শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব নয়।শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা, আর বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে মুক্তির এক ও একমাত্র পথ সকল শিক্ষা ব্যবস্থা এক যোগে জাতিয়করণ করা।

তাই আশা করি অচিরেই জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিয়করণের ঘোষনা দিয়ে এম,পিও,ভুক্ত শিক্ষক সম্প্রদায়ের হতাশা থেকে মুক্তি দিবেন এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে সকল বৈষম্য দুরীকরণে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবেন বলে বিশ্বাস রাখি।সেই সাথে আরো দু-একটি বৈষম্য তুলে ধরার চেষ্ট করছি।

বাড়ী ভাড়ার বিষয়টি আমি সংক্ষেপে একটু ব্যাখ্যা করতে চাই।যদিও আমি আগের লেখায় বাড়িভাড়ার বিষয়টি লিখেছিলাম কিন্তু বিষয়টি আরো একটু স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে আমি মনে করছি। সরকারী সকল চাকুরীজীবি স্থান ভেদে বাড়িভাড়া পেয়ে থাকেন তার মূল বেতনের ৪৫% থেকে ৬০% যেমন একজন সরকারী চাকুরীজীবি প্রত্যন্ত গ্রামীন অঞ্চলে হলে বাড়িভাড়া পেয়ে থাকেন ৪৫% আবার যদি পার্বত্য এলাকায় চাকরী করেন তখন বাড়িভাড়া পেয়ে থাকেন ৬০%। এভাবে জেলা শহর, বিভাগীয় শহর,রাজধানী শহর বিভিন্ন জায়গায় বাড়িভাড়া বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে।সেখানে এম,পি,ও ভুক্ত শিক্ষকরা প্রতিষ্ঠান প্রধান থেকে পিয়ন পর্যন্ত সবাই পেয়ে থাকেন ১০০০ টাকা এখানে কোনো % অনুসরন করা হয় না।

এর পর আমি বলবো উৎসব ভাতার কথা। আজ থেকে এক যুগের বেশি সময় ধরে শিক্ষকরা উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন।কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন তার মূল বেতনের ২৫% আর কর্মচারীরা পেয়ে থাকেন মূল বেতনের ৫০%। ফলে দেখা যায় একজন ১২৫০০ বা টাকা ১৬০০ টাকা স্কেলের একজন শিক্ষক ৮২৫০ স্কেলের একজন পিয়নের চেয়ে কম টাকা উৎসব ভাতা পেয়ে থাকেন। যা তার উপর মর্যাদার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। ২৫% উৎসব ভাতায় একজন শিক্ষকের পক্ষে কি তার পরিবার পরিজন নিয়ে উৎসব পালন করা সম্ভব এই প্রশ্নের উত্তর আমি দেশের কর্তা ব্যক্তিদের বিবেকের কাছেই ছেড়ে দিলাম!একজন শিক্ষক ৩০০০টাকা বা ৪০০০ টাকায় কি একটি নূন্যতম পশু ক্রয় করতে পারবেন সে প্রশ্নও রইলো জাতির বিবেকের নিকট।

এর পরে আসি রেশিয় বা অনুপাত প্রথা প্রসংগে, একই যোগ্যতা নিয়ে দুই জন প্রভাষক যখন একই দিনে একই প্রতিষ্ঠানে যোগদান করে ৯ম গ্রেডে অর্থাৎ ২২০০০ টাকার বেতন স্কেলে চাকুরী শুরু করেন তখন দুজনেরই তো একই স্বপ্ন থাকে চাকরীতে পদোন্নতি নিয়ে। অনুপাত প্রথার বেড়াজালে পরে এবং অযোগ্য গর্ভনিং বডির অদক্ষায় তুলনামূলক ভালো শিক্ষকটি যখন ৯ম গ্রেডেই রয়ে যায়,তখন তুলনামূলক কম দক্ষ বা একই যোগ্যতা সম্পন্ন অন্য শিক্ষকটি ৮ বা ১২ বছরের অভিজ্ঞতায় ৬ষ্ঠ গ্রেড প্রাপ্ত হয়ে যান, তখন কি তার সহকর্মী তার কার্যক্রমে আর আগের মত উদ্দীপ্ত বা উৎজীবিত ভাবে কাজ করতে পারেন?এতো বৈষম্য শিক্ষা ব্যবস্থায় থাকবেকেনো? দেশ স্বাধীনের ৪৮ বছরেও কেনো আমাদের এতো বৈষম্য থাকতে হবে? আমরা এতো বৈষম্য চাই না, আমরা স্বাধীন জাতি আমাদের সম যোগ্যতা সম্পন্ন প্রত্যেকটি চাকুরীজীবির সমান সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করা রাষ্টের দায়িত্ব নয় কি?

আজ আর বৈষম্য লিখবো না। শুধু জাতির জনকের সুযোগ্য কন্যা মাদার অব হি