৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার , জুন ১৮ ২০১৯
Breaking News
Home / জাতীয় / বৈষম্যের যাঁতাকলে চাপা পড়ে আছে বেশিক জীবন !!!

বৈষম্যের যাঁতাকলে চাপা পড়ে আছে বেশিক জীবন !!!

মোঃ আবুল হোসেনঃ দেশ স্বাধীন হয়েছে সত্য কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ এখনো পেল না। 
জাতি গড়ার নিপুণ কারিগর আজ সবচেয়ে বেশি অবহেলিত। জাতির পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের কোন পরিবর্তন কিংবা পরিবর্ধন কিছুই হলো না। রয়েই গেল এনালগ যুগে। ডিজিটাল যুগের ছোঁয়া পেল না। যা সত্যিই বেদনাদায়ক। 
দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে। কিন্তু বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা দিচ্ছে চরম শিক্ষক অসন্তোষ। শুরু হয়ে গেছে বিভিন্ন শিক্ষক আন্দোলন যা শিক্ষা ব্যবস্থায় কারোর কাম্য হতে পারে না। 
আজ বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছে গেছে এবং উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় দ্বিতীয়। দুঃখের বিষয় আজও বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জীবনযাপনে কোন রুপ পরিবর্তন হলো না। 
আজও সেই আদিম যুগেই রয়ে গেল বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এখনো বে, শব্দটি থেকে মুক্তি পেল না বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা।
বাড়ি ভাড়া ১০০ টাকা ছিল দীর্ঘদিন। এই বাড়ি ভাড়া বর্তমানে করা হয়েছে ১০০০ টাকা। যা বর্তমান সময়ে সত্যিই বেমানান। বর্তমান সময়ে সর্বনিম্ন বাড়ি ভাড়া  গ্রামাঞ্চলে যেখানে ৩০০০ টাকা। তাহলে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বাকি টাকা কোথায় পাবে? শহরাঞ্চলের বাড়ি ভাড়া ৬০০০ টাকা  থেকে ২০০০০ টাকার ও বেশি।
 সেক্ষেত্রে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এই সামান্য বেতনের টাকা দিয়ে জীবনযাপনই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের ভরণপোষণ করতে পারতেছে না বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। অভাব অনটন সারাক্ষণ তাড়া করে বেড়াচ্ছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের। 
আর বাড়ি ভাড়া টাকা জোগাড় করবে কীভাবে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা একটু ভাবুন সুধি সমাজ। 
চিকিৎসা ভাতা ১৫০ টাকা থেকে বর্তমানে করা হয়েছে ৫০০ টাকা। আর সরকারি যারা তারা পায় ১৫০০ টাকা। বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের এই ৫০০ টাকায় কীভাবে চিকিৎসা করাবে?
  যেখানে ডাক্তারদের সর্বনিম্ন ফি ৫০০ টাকা। বাকি টাকা কোথায় পাব? 
পেনশনের ব্যবস্থা নেই। আছে শুধু অবসর ও কল্যাণ তহবিল নামে ১০০ মাসের বেতনের সমতুল্য সর্বশেষ স্কেলের সমান টাকা।
 নেই কোন ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। আর সরকারি চাকরি যারা করেন তারা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভাতা পায়। আর বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তা থেকে ও বঞ্চিত। 
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পেনশনের আওতায় আনা অতীব জরুরি। নেই সন্তানের শিক্ষা ভাতা। নেই বাড়তি কোনো সুযোগ সুবিধা। 
অবসর ও কল্যাণ তহবিলের আয় বাড়ানোর নামে  বর্তমানে মুল স্কেলের ১০ শতাংশ হারে কর্তন করা হয়। এই কর্তনের ও বাড়তি কোনো সুযোগ সুবিধা নেই। সেই পূর্বের ন্যায় সুযোগ সুবিধা বহাল আছে।তাহলে এই কর্তন কেন ? কর্তন কর্তন খেলা বন্ধ করে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পেনশনের আওতায় আনুন মাননীয় কর্তৃপক্ষ। 
আজীবন একই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা। নেই কোন বদলি প্রথা। যেখানে শিক্ষা ব্যবস্থায় বদলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তা থেকে ও বঞ্চিত বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। 
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদ বোনাস পায় মুল স্কেলের ২৫ শতাংশ। এই ঈদ এক যুগের ও বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেল তবুও তার কোন পরিবর্তন হলো না । এই ঈদ বোনাসের পরিবর্তন চাই। 
 অন্য কোনো পেশায় এমন ঈদ বোনাস লক্ষণীয় নয়। সকল পেশার চাকরি জীবিরা পূর্ণাঙ্গ ঈদ বোনাস পায়। শুধু  বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা তা থেকে ও বঞ্চিত।সকল প্রকার বৈষম্যের অবসান চাই। বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, বদলি, পেনশন সরকারি ন্যায় করার জোর দাবি জানাচ্ছি। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট বিনীত অনুরোধ এই যে, দেশের উন্নয়নের ধারায় বেসরকারি 
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সংযুক্ত করে বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে উপহার দিলে শিক্ষক সমাজ আপনার প্রতি চির কৃতজ্ঞ থাকবে। আশা করি আপনি বৈষম্যহীন শিক্ষা ব্যবস্থা জাতিকে উপহার দিবেন। 
ধন্যবাদান্তে মোঃ আবুল হোসেন সিনিয়র যুগ্ম- মহাসচিব বাশিস (নজরুল) কেন্দ্রীয় কমিটি।

Facebook Comments

Check Also

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বজ্রবৃষ্টি “স্পার্ক” – আবহাওয়া অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শক্তিশালী বজ্রবৃষ্টি ‘স্পার্ক’ বা ফুলকি ধেয়ে আসছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফেসবুকে দেয়া তথ্যে …

ভূরুঙ্গামারীতে বিভিন্ন পেশার ১০ জন প্রতিভাবান ব্যক্তির মাঝে পুরুস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা

    অাজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পাইকেরছড়া ইউনিয়নের আমেরিকান প্রবাসী আজিজুল হাসান এর আয়োজনে সৎ …

প্রধান শিক্ষক রাসেলের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিতঃ হামলাকারীর শাস্তির দাবি

অাজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর ছিট পাইকেরছড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম …

শিক্ষকই শিক্ষার মেরুদন্ড! তাই এখনই হোক সকল বৈষম্য মুক্ত।

শিক্ষকই শিক্ষার মেরুদন্ড! আমরা সব সময় বলি শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষিত জাতি ছাড়া যেমন দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা সম্ভব নয় তেমন শিক্ষিত জাতি ছাড়া উন্নত দেশ ও জাতি গঠনও সম্ভব নয়।উন্নত জাতি গঠনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে শিক্ষিত জন শক্তি তৈরী করা। সেটা করতে জাতিকে যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে জাতিকে উন্নত ও কাঙ্খিত রাষ্ট্র গঠন করতে। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক। সকল শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক।মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ করতে না পারলে এক সময় শিক্ষার মান এমন এক স্তরে গিয়ে পৌছাবে,যেখান থেকে এ দেশ তথা জাতিকে উন্নত দেশ গঠনের স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে সেটা আর কখনো বাস্তবে রুপ লাভ করতে সক্ষম হবে না।যেটা হবে সেটা হচ্ছে এক ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা। যার ফলশ্রুতি হবে এক হতাশা গ্রস্ত জাতি যে জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা নিচু করে কুর্নিশ করবে গোটা বিশ্বকে আর নিজেদের ভাববে এক অসহায় জাতি হিসেবে এবং কলংকিত বোধ করবে জাতি হিসেবে। আসলে আমরা কি সেই কলংকিত জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা কুর্নিশ করে থাকতে চাই নাকি বিশ্ব দরবারে নিজেদের মাথা উঁচু করে জাতি হিসেবে অহংকার করতে চাই।সেটা ভাবার সময় এসেছে আর দেরী করা চলবে না।সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে ব্যাক্তি হিসেবে যেমন কেউ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, তেমনি জাতি হিসোবেও সফল জাতিতে পরিনত হওয়া যায় না।যে জাতি নিজেদের ভাষার জন্য প্রাণ দিতে কুন্ঠিত হয় না, যে জাতি স্বাধীনতার জন্য অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে পারে সে জাতি কি আজ এতো সহজে হেরে যেতে পারে? জাতিকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্রের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা নেত্রীগণ। শিক্ষিত জাতি গড়ার জন্য দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ করাও রাষ্ট্রের কর্তব্য।দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিতে সবাগ্রে প্রয়োজন বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।আর বৈষম্য মুক্ত শিক্ষ ব্যবস্থা করতে হলে সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরী। সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে না পারলে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা সম্ভব নয়।আর শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরী করতে না পারলে উন্নত জাতি গঠন কখনোই সম্ভব নয়। শিক্ষাই যদি শিক্ষার মেরুদন্ড হয় তাহলে তো শিক্ষকই শিক্ষার মেরুদন্ড!আর সেই শিক্ষকদের অবহেলিত রেখে কি উন্নত জাতি গড়া সম্ভব? নানা অবহেলা,বঞ্চনা,নিপীড়ন,নির্যাতন সহ্য করে কিভাবে একজন শিক্ষক নিজেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দিবেন? আজও একজন শিক্ষকের উৎসব ভাতা সিকি,বাড়ী ভাড়া হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা,টিফিন ভাতা,ঝুকি ভাতা, ছেলেমেয়েদের শিক্ষাভাতা থেকে একেবারেই বঞ্চিত!কেনো আজও এতো বৈষম্যের স্বীকার শিক্ষার কারিগররা কি দোষ তাদের? উন্নত জাতি গড়াই যাদের মহান ব্রত,তাদের পরিবার পরিজন বলে কি কিছু থাকতে নাই নাকি থাকে না? এই প্রশ্ন রইলো জাতির বিবেকের নিকট? এই জন্যই কি জাতির জনক দেশ স্বাধীন করেছিলেন? শিক্ষকদের অভুক্ত রেখে কি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন? জাতির জনকের স্বপ্ন কি আজও পূরণ করার সময় হয়নি? বৈষম্য মুক্ত জাতি গঠনের আর কত দেরী পাঞ্জেরী? তাই আমি বর্তমান সময়ের সুযোগ্য নেত্রী জাতির পিতার তনয়া মাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে বিনীত ভাবে অনুরোধ করবো। স্বাধীন বাংলার সকল বৈষম্য মুক্ত করতে, উন্নত দেশ ও জাতি গঠন করতে, জাতির পিতার স্বপ্ন সত্যি করতে এবং শিক্ষিত জাতি গড়তে ২০১৯/২০ অর্থ বাজেটেই সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের বাজেট রেখে জাতিকে বৈষম্য মুক্ত করবেন বলেই আমি প্রত্যাশা রাখছি। জয় বাংলা ★★★★★ জয় বঙ্গবন্ধু। লেখক ও কলামিস্ট মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন (আপন), সহকারী প্রধান শিক্ষক। ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ( নজরুল), চট্টগ্রাম বিভাগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

4 × 1 =

Skip to toolbar