৭ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শনিবার , এপ্রিল ২০ ২০১৯
Breaking News
Home / সম্পাদকীয় / উপসম্পাদকীয় / প্রাথমিকে গ্রেডিং, মর্যাদা ও সহঃপ্রধান শিক্ষক পদসৃষ্টির জটিলতাঃ

প্রাথমিকে গ্রেডিং, মর্যাদা ও সহঃপ্রধান শিক্ষক পদসৃষ্টির জটিলতাঃ

সাখাওয়াত সৈকত: গত কদিন ধরেই দেখছি গ্রেডিং ও সহঃ প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টি একটি জটিলতার ফাঁদে পড়েছে। একেকজন একেকভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করছেন যার যার মত করে, কেও পক্ষে আবার কেও বিপক্ষে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ সহকারী শিক্ষকই সহঃ প্রধান শিক্ষক পদ সৃষ্টির বিপক্ষে। পাশাপাশি প্রতিটি বিদ্যালয়ে সহঃ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না দিয়ে একজন অফিস সহকারী নিয়োগ এর পক্ষে যৌক্তিক ব্যাখ্যা।

এখানে সবচেয়ে জটিল বিষয়টা হলো সৃষ্ট পদের গুরুত্ব ও আমাদের বোধগম্যতা। কেও বুঝেও না বোঝার ভান করে আবার
কেও সহজ করে বোঝে আবার কেও সহজ একটা জিনিসকে ঘুরিয়ে পেচিয়ে আরও জটিল করে বোঝে। যাক সেসব কথা, সব কথার এক কথা, সহজ কথাটি সহজ ভাবে গ্রহণ করতে শিখতে পারলে আমাদের ইতিবাচক মনোভাব তৈরী হবে। এখানে কতৃপক্ষ বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন সেটাই এখন ভেবে দেখার বিষয়।

প্রধান শিক্ষক দ্বিতীয় শ্রেনীর মর্যাদায় যদি ১০ম গ্রেড হয় তবে সহকারি প্রধান শিক্ষক এবং সহকারি শিক্ষকের গ্রেড একই করা হোক। সিনিয়রিটির ভিত্তিতে একজন সহকারি প্রধান শিক্ষক থাকবেন। কারন একজন শিক্ষকতো তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হয়ে থাকতে পারেনা! যা বিশ্বের কোন দেশেই শিক্ষকদের এমন হেয় কিংবা নিম্ন মর্যাদাসহ বেতন কাঠামো প্রদান করেনা। সকল শিক্ষক এর এন্ট্রি গ্রেডই হতে হবে দশম গ্রেড যা দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা দিয়ে শুরু হবে।

পিটিআই ইন্সট্রাক্টর, সহকারি সুপার, টিইও ও এডিপিইও সবাই একই গ্রেড নবম এ আছেন, কই তাদেরতো কোন প্রবলেম নাই তবে এটিইও, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষক একই গ্রেড দশম এ থাকলে এতো কেন প্রবলেম!
কতৃপক্ষের এমন কেও কি নেই যে, কারো বোধগম্য হয় বিষয়টা।
এই গ্রেডিং এর জটিলতা আর কতদিন চলবে! এর নিরসনের পথটা যতটা ভাবছি ততটাই যেন পেচিয়ে ফেলছি আমরা সকলেই।

দেখুন যুগ বদলেছে, দেশে আমূল পরিবর্তন এসেছে। আগের সেই যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক আর প্রাথমিকে নেই। এখন যেমন যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক এসেছে তেমনি বদলেছে শিক্ষা পদ্ধতি ও ব্যবস্থা। সাথে সাথে উন্নয়ন হয়েছে শিক্ষার মানও। শুধু ভালোটা নিবেন আর ভালোটা দিবেন না তাতো হয়না। প্রাথমিক শিক্ষা যদি সকল শিক্ষার মূল ভিত্তিই হয় তবে ভিত্তিটাই আগে শক্ত করুন, বিল্ডিং টা মজবুত হবে। এখানে যেটা বরাদ্দ দিবেন সেটা ব্যয় হিসেবে ধরবেন না, এটা হবে ইনভেস্টমেন্ট। যেমন ইনভেস্ট করবেন, তেমনই ফল পাবেন। আশা করি আগামীতে প্রাথমিক শিক্ষায় আরও সুদৃষ্টি আসবে, এমনটাই প্রত্যাশা।

সাখাওয়াত সৈকত
সহকারী শিক্ষক
শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

Leave a Reply

Your e-mail address will not be published.

14 − 10 =