৪ঠা আষাঢ়, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার , জুন ১৮ ২০১৯
Breaking News
Home / জাতীয় / ডাকসুর ভিপি নূর নিজের চেয়ারে বাবাকে বসিয়ে ইতিহাস করিলেন

ডাকসুর ভিপি নূর নিজের চেয়ারে বাবাকে বসিয়ে ইতিহাস করিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঈদুল ফিতরের ছুটি কাটাতে ডাকসু’র ভিপি নূরুল হক নূর এখন নিজ গ্রামের বাড়ি গলাচিপার চরবিশ্বাসে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ(ডাকসু) ভিপি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজের এলাকায় আসলেন তিনি।

ঢাকা থেকে রাঙ্গাবালীগামী লঞ্চযোগে রোববার সকালে চরকাজল লঞ্চঘাটে পৌঁছান। সেখান থেকে বিশাল মোটরসাইকেল শোডাউন নিয়ে তার এলাকা চরবিশ্বাসে পৌঁছান। নিজ এলাকায় পৌছালে হাজারো জনতা তাকে উষ্ণ ফুলেল শুভেচ্ছা জানায়।

গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ও চরকাজল ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের পক্ষে রবিবার সকাল সাড়ে ১০ টায় চরবিশ্বাস বুধবারের বাজারে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। তার আগমনে লঞ্চঘাট থেকে বাড়ি পর্যন্ত ৮টি তোরণ নির্মাণ করা হয়।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে চরবিশ্বাস ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মো. রাজামিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাকসুর ভিপি নূরুল হক নুর। উপস্থিত ছিলেন নুরের বাবা মো. ইদ্রিস হাওলাদার।

অনুষ্ঠানস্থলে এসেই নিজের জন্য রাখা সংরক্ষিত চেয়ারে বাবাকে বসিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন তিনি। বাবাকে নিজের চেয়ারে বসিয়ে বাবার ডান পাশের চেয়ারে বসেন ভিপি নুর। বাবার প্রতি ছেলের এমন শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেখে অভিভূত সবাই।

এরই মধ্যে নিজের চেয়ারে বাবাকে বসানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পরই ওই ভিডিও ভাইরাল হয়। বাবার প্রতি নুরের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা দেখে প্রশংসা করেছেন অনেকেই।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কৃষক মো. ইদ্রিস হাওলাদারের ছেলে নুরুল হক নুর। তিন ভাই ও পাঁচ বোনের মধ্যে নুর দ্বিতীয়। এত বড় সংসারের ঘানি টানতে নুরের বাবা ইদ্রিস হাওলাদার কৃষিকাজের পাশাপাশি উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডে একটি বাজারে চায়ের দোকান দিয়েছেন। এ দোকান দিয়েই সংসার চালান নুরের বাবা।

এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্যে নূরুল হক নূর বলেন, ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয় থেকেই বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। ভাষা আন্দোলন, গনঅভূথান, মুক্তিযুদ্ধসহ বড় বড় সংগ্রাম সংঘটনের পিছনে এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাই মূখ্য। বাংলাদেশের আনাচে কানাচে মেধাবি ছাত্ররাই এই বিদ্যাপীঠে পড়াশোনা করে। এখান থেকেই বড় বড় রাজনীতিবিদ সৃষ্টি হয়। প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে খ্যাত এই প্রতিষ্ঠান নানা তথ্য তার নিজ এলাকা বাসীর সামনে তুলে ধরেন।

এছাড়া আরও বলেন, বর্তমানে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছে না। কৃষক এখন কৃষি কাজ ছেড়ে দিতে চাচ্ছে। এ জন্য কৃষকের পাশে সকলের দাঁড়ানো উচিত।

Facebook Comments

Check Also

ধেয়ে আসছে শক্তিশালী বজ্রবৃষ্টি “স্পার্ক” – আবহাওয়া অধিদপ্তর

নিজস্ব প্রতিবেদক: শক্তিশালী বজ্রবৃষ্টি ‘স্পার্ক’ বা ফুলকি ধেয়ে আসছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফেসবুকে দেয়া তথ্যে …

ভূরুঙ্গামারীতে বিভিন্ন পেশার ১০ জন প্রতিভাবান ব্যক্তির মাঝে পুরুস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা

    অাজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পাইকেরছড়া ইউনিয়নের আমেরিকান প্রবাসী আজিজুল হাসান এর আয়োজনে সৎ …

প্রধান শিক্ষক রাসেলের উপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিতঃ হামলাকারীর শাস্তির দাবি

অাজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর ছিট পাইকেরছড়া নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম …

শিক্ষকই শিক্ষার মেরুদন্ড! তাই এখনই হোক সকল বৈষম্য মুক্ত।

শিক্ষকই শিক্ষার মেরুদন্ড! আমরা সব সময় বলি শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। শিক্ষিত জাতি ছাড়া যেমন দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা সম্ভব নয় তেমন শিক্ষিত জাতি ছাড়া উন্নত দেশ ও জাতি গঠনও সম্ভব নয়।উন্নত জাতি গঠনের পূর্ব শর্ত হচ্ছে শিক্ষিত জন শক্তি তৈরী করা। সেটা করতে জাতিকে যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থাই পারে জাতিকে উন্নত ও কাঙ্খিত রাষ্ট্র গঠন করতে। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনা করতে হলে সবার আগে প্রয়োজন দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক। সকল শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্ত করতে হবে দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক।মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ করতে না পারলে এক সময় শিক্ষার মান এমন এক স্তরে গিয়ে পৌছাবে,যেখান থেকে এ দেশ তথা জাতিকে উন্নত দেশ গঠনের স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই থেকে যাবে সেটা আর কখনো বাস্তবে রুপ লাভ করতে সক্ষম হবে না।যেটা হবে সেটা হচ্ছে এক ভঙ্গুর শিক্ষা ব্যবস্থা। যার ফলশ্রুতি হবে এক হতাশা গ্রস্ত জাতি যে জাতি বিশ্বের দরবারে মাথা নিচু করে কুর্নিশ করবে গোটা বিশ্বকে আর নিজেদের ভাববে এক অসহায় জাতি হিসেবে এবং কলংকিত বোধ করবে জাতি হিসেবে। আসলে আমরা কি সেই কলংকিত জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা কুর্নিশ করে থাকতে চাই নাকি বিশ্ব দরবারে নিজেদের মাথা উঁচু করে জাতি হিসেবে অহংকার করতে চাই।সেটা ভাবার সময় এসেছে আর দেরী করা চলবে না।সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে ব্যাক্তি হিসেবে যেমন কেউ প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, তেমনি জাতি হিসোবেও সফল জাতিতে পরিনত হওয়া যায় না।যে জাতি নিজেদের ভাষার জন্য প্রাণ দিতে কুন্ঠিত হয় না, যে জাতি স্বাধীনতার জন্য অকাতরে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে পারে সে জাতি কি আজ এতো সহজে হেরে যেতে পারে? জাতিকে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তোলা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালন করবেন রাষ্ট্রের দায়িত্বে নিয়োজিত সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা নেত্রীগণ। শিক্ষিত জাতি গড়ার জন্য দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ করাও রাষ্ট্রের কর্তব্য।দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক নিয়োগ দিতে সবাগ্রে প্রয়োজন বৈষম্য মুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা।আর বৈষম্য মুক্ত শিক্ষ ব্যবস্থা করতে হলে সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা অত্যন্ত জরুরী। সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে না পারলে শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরী করা সম্ভব নয়।আর শিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি তৈরী করতে না পারলে উন্নত জাতি গঠন কখনোই সম্ভব নয়। শিক্ষাই যদি শিক্ষার মেরুদন্ড হয় তাহলে তো শিক্ষকই শিক্ষার মেরুদন্ড!আর সেই শিক্ষকদের অবহেলিত রেখে কি উন্নত জাতি গড়া সম্ভব? নানা অবহেলা,বঞ্চনা,নিপীড়ন,নির্যাতন সহ্য করে কিভাবে একজন শিক্ষক নিজেকে শিক্ষার্থীদের মাঝে অকাতরে নিজেকে বিলিয়ে দিবেন? আজও একজন শিক্ষকের উৎসব ভাতা সিকি,বাড়ী ভাড়া হাজার টাকা, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা,টিফিন ভাতা,ঝুকি ভাতা, ছেলেমেয়েদের শিক্ষাভাতা থেকে একেবারেই বঞ্চিত!কেনো আজও এতো বৈষম্যের স্বীকার শিক্ষার কারিগররা কি দোষ তাদের? উন্নত জাতি গড়াই যাদের মহান ব্রত,তাদের পরিবার পরিজন বলে কি কিছু থাকতে নাই নাকি থাকে না? এই প্রশ্ন রইলো জাতির বিবেকের নিকট? এই জন্যই কি জাতির জনক দেশ স্বাধীন করেছিলেন? শিক্ষকদের অভুক্ত রেখে কি সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন? জাতির জনকের স্বপ্ন কি আজও পূরণ করার সময় হয়নি? বৈষম্য মুক্ত জাতি গঠনের আর কত দেরী পাঞ্জেরী? তাই আমি বর্তমান সময়ের সুযোগ্য নেত্রী জাতির পিতার তনয়া মাদার অব হিউম্যানিটি খ্যাত দেশনেত্রী শেখ হাসিনাকে বিনীত ভাবে অনুরোধ করবো। স্বাধীন বাংলার সকল বৈষম্য মুক্ত করতে, উন্নত দেশ ও জাতি গঠন করতে, জাতির পিতার স্বপ্ন সত্যি করতে এবং শিক্ষিত জাতি গড়তে ২০১৯/২০ অর্থ বাজেটেই সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের বাজেট রেখে জাতিকে বৈষম্য মুক্ত করবেন বলেই আমি প্রত্যাশা রাখছি। জয় বাংলা ★★★★★ জয় বঙ্গবন্ধু। লেখক ও কলামিস্ট মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন (আপন), সহকারী প্রধান শিক্ষক। ও সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ( নজরুল), চট্টগ্রাম বিভাগ।

Skip to toolbar