দৈনিক শিক্ষা খবর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরলের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কে আসছেন ভোটের মাঠে___!!

হুসাইন মোঃ আরমান

ঠাকুরগাঁও সংবাদ’দাতা
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলের একক প্রার্থী। এখন দেখার বিষয়, এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে কে আসছেন ভোটের মাঠে। এ আসনে ক্ষমতাসীন দলের ১৪ জন মনোনয়ন চাইছেন। অবশ্য তাদের মধ্যে এগিয়ে আছেন বর্তমান সাংসদ রমেশ সেন। রংপুর বিভাগে অনানুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের যেসব প্রার্থী চূড়ান্ত হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে খবর আসছে, তাতেও নাম রয়েছে তার। তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করার কথা বলছেন অন্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

ঠাকুরগাঁওয়ের আসনে এবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরিবর্তনের আশায় ছিল তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত বেশিরভাগ নেতাকর্মী। গণমাধ্যমে আসা প্রার্থী তালিকায় রমেশ চন্দ্রের নাম থাকায় কর্মীদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বেশি স্পষ্ট হয়েছে। নৌকাকে আবারও বিজয়ী করার লক্ষ্যে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নৌকার নতুন মাঝি হিসেবে প্রয়াত এমপি খাদেমুল ইসলামের ছেলে সাবেক ছাত্রনেতা সাহেদুল ইসলাম সাহেদকে গুরুত্ব দিচ্ছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

এর কারণ হিসেবে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বরাবরই বলে আসছেন আগামীতে দলের হাল ধরার জন্য এখন থেকেই তরুণদের তৈরি হতে হবে। সেদিক বিবেচনা করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মুখে মুখে এ আসনের ১৪ মনোনয়নপ্রত্যাশীর মধ্যে তরুণ ও যোগ্য প্রার্থী সাহেদের নাম। সাহেদ প্রার্থী হলেই শুধু বিএনপির মির্জা ফখরুলকে হারানো সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

তবে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মির্জা ফখরুলের জয় নিশ্চিত বলে দাবি করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি তৈমুর রহমান। তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিব আমাদের অভিভাবক। এ আসনে তার জয়জয়কার অবস্থা। এবার তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন- এতে কোনো সন্দেহ নেই।

তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের সবার পছন্দের মানুষ মির্জা ফখরুল। এখানে বিএনপি ব্যাপক সুসংগঠিত। জেলা,  উপজেলা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে কার্যকরী কমিটি আছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আচরণে ঠাকুরগাঁওবাসী অতিষ্ঠ। সাধারণ মানুষ পরিবর্তন চায়। ফখরুলের জয়ের জন্য এখানে তার উপস্থিতি দরকার নেই। সাধারণ মানুষ তাকে ভালোবেসে ভোট দেবেন।

সাংসদ রমেশ চন্দ্র বলেন, ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। এলাকার সাধারণ মানুষ উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আমাকে প্রার্থী হিসেবে চায়। উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এমনকি ভোটকেন্দ্র ঘিরে আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করেছি। ঠাকুরগাঁওয়ে আওয়ামী লীগের কোনো কোন্দল নেই। আবারও নৌকার মাঝি হতে পারলে মির্জা ফখরুলকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে আসনটি নেত্রীকে উপহার দিতে পারব।

সাহেদুল ইসলাম সাহেদ বলেন, আমার বাবা খাদেমুল ইসলাম পরপর তিনবার সাংসদ ছিলেন। তিনি ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন। মির্জা ফখরুল কখনও বাবাকে পরাজিত করতে পারেননি। বিশ্বাস আছে, তিনি আমাকেও পরাজিত করতে পারবেন না। নির্বাচনী এলাকার মানুষ আমার ওপর আস্থা রেখেছে।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত তিনি। এ আসনে নেত্রী তাকে সুযোগ দিলে ঠাকুরগাঁওয়ের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটাবেন তিনি। নৌকার বিজয় নিশ্চিত হবে। বাবার মতো নৌকার বিজয় উপহার দিতে চান তিনিও। এখন অপেক্ষায় আছেন প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।