Wed. Jan 22nd, 2020

দৈনিক শিক্ষা খবর

ঠাকুরগাঁও- ১ আসনে কে নৌকার মাঝি !!

হুসাইন মোঃ আরমান
নিউজ ৭১ অনলাইন
ঠাকুরগাঁও সংবাদ’দাতাঃ
সংসদীয় আসনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ১০ মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাদান করেছেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও বর্তমান সাংসদ সাবেক পানি সম্পদমন্ত্রী রমেশ চন্দ্রসহ একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ নিয়ে দলীয় কর্মী সমর্থকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দ্বিধাদ্বন্দ্ব। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা জুড়ে একই আলোচনা ‘কে হচ্ছেন নৌকার মাঝি’।
‘সময় না দিলে বলে দিন, নির্বাচন করতে পারবো না’
‘বড়দিন আর থার্টিফার্স্টের উছিলা বড় হাস্যকর’
বেদে সম্প্রদায়: উপেক্ষিত এক যাযাবর জনগোষ্ঠী
প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীরা একাট্টা হয়ে আওয়াজ তুলে সরব অবস্থান নিলেও বর্তমান সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন সমর্থকরা দাবি করছেন এবারো দলীয় মনোনয়ন তারাই পাবেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে মনোনয়ন ফরম জমা নিয়েছেন আওয়ামী লীগ। অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে এ আসন থেকে এবারই প্রথম ১০ জন মনোনয়ন প্রত্যাশী দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। নৌকার টিকিট পেতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন: বর্তমান এমপি ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য রমেশ চন্দ্র সেন, ৩ বারের প্রয়াত এমপি খাদেমুল ইসলামের ছেলে কূটনীতিক সাহেদুল ইসলাম সাহেদ, প্রয়াত ভাষা সৈনিক ও সাবেক গভর্নর ফজলুল করিমের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. মকবুল হোসেন বাবু, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সাদেক কুরাইশী, সাবেক যুবলীগের সভাপতি ও বর্তমান সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো, কেন্দ্রীয় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ কমিটির সহ-সম্পাদক রাজিউর রেজা খোকন চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক ইন্দ্রনাথ রায়, সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও যুব মহিলা লীগের সভাপতি তাহমিনা আক্তার মোল্লা, ঠাকুরগাঁও জেলা ছাত্র লীগের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় ছাত্র লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক কামরুল হাসান খোকন ও জেলা আওয়ামী লীগের বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক শামসুজ্জামান দুলাল।
বর্তমান এমপির নিজ দলের কর্মীদের সাথে অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে জেলা নেতৃবৃন্দ ও উপজেলা নেতৃবৃন্দের দ্বন্দ্ব আরো প্রকট হয়েছে বলে মনে করছেন দলের সাধারণ সমর্থকরা।
এ ব্যাপারে সদর উপজেলার প্রবীণ নেতা আমির হোসেন বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসলে দলীয় প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তৃণমূল নেতাকর্মীদের।
বর্তমান সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেন নির্বাচিত হয়ে কতিপয় দুর্নীতিবাজ ও বিতর্কিত লোকদের নিয়ে তিনি তৃণমূল আওয়ামী লীগকে দূরে নিয়ে গেছেন। তাই দল ও আওয়ামীলীগকে এগিয়ে নেয়ার লক্ষে বিকল্প প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমাদান করতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছি। এখনই নেত্রীই সিদ্ধান্ত নেবেন কাকে মনোনয়ন দেয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আলম টুলু বলেন, আওয়ামী লীগ অত্যন্ত শক্তিশালী সংগঠন। কতিপয় ব্যক্তি আওয়ামী লীগকে দুর্বল করার জন্য ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য দলে বিভেদ সৃষ্টি করছেন। এলাকার সাংসদ রমেশ চন্দ্র সেনের পক্ষে এই আসটির প্রতিটি ইউনিটের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। আমরা আশাবাদী আমাদের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এলাকার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আবার উনাকেই মনোনয়ন দেবেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশী সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অরুনাংশু দত্ত টিটো বলেন, এলাকার মানুষ প্রার্থী পরিবর্তন চায়। এখানকার বর্তমান এমপি গত ১০ বছরে উন্নয়ন করেছেন ঠিকই। তার কাছের কিছু কতিপয় ব্যক্তি নিয়োগ বাণিজ্য করেছেন শতভাগ।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনে নৌকার মাঝি পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।’ তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে বিএনপি-জামায়াতের বিরুদ্ধে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাকে। মিথ্যা অভিযোগে করা মামলায় তাকে সাত মাস ১১ দিন জেল খাটতে হয়েছিল। তাই এই আসনের তৃণমূল ও যুবক শ্রেণির ৮০ শতাংশ সমর্থন আমার পক্ষে রয়েছে। তাছাড়া সভানেত্রী আমাকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য কাউকে দিলেও আমি দলের পক্ষে কাজ করবো।
অন্যদিকে, মনোনয়ন পাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাড. মকবুল হোসেন বাবু বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক। আমার বাবা ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধে সংগঠক প্রয়াত ফজলুল করিম আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। বর্তমান এমপি’র তাছাড়া অনেক বয়স হয়েছে। আমি আওয়ামী লীগের জন্য কাজ করে আসছি। আমি আশাবাদী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দল এবং এলাকার উন্নয়নের কথা চিন্তা করে প্রার্থী মনোনয়ন দেবেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২০০১ সালে দলীয় কোন্দলে দল জড়িয়ে পড়ে। কেন্দ্র থেকে ভেঙ্গে দেয়া হয় কমিটি। সেই সময় ছিল দলের দুঃসময়।
দলের দায়িত্ব পড়ে যায় আমার কাঁধে। জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদে থেকে আমি দলের কোন্দল দূর করে সুসংগঠিত করেছি। দিনরাত শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত চষে বেড়াচ্ছি। নেত্রী যদি মনোনয়ন দেন তাহলে নির্বাচন করতে আমি প্রস্তুত।
প্রয়াত এমপি খাদেমুল ইসলামের ছেলে সাহেদুল ইসলাম সাহেদ বলেন, আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বর্তমান তরুণদের নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন। তরুণ নেতৃত্বে দেশকে বিশ্বের দরবারে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আমার বাবা এই আসনে ৩ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। বাবার অসমাপ্ত কাজ গুলো শেষ করার জন্য নেত্রী বিবেচনা করে মনোনয়ন দিবেন বলে আশা করছি।
একমাত্র প্রথম নারী এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী তাহমিনা আক্তার মোল্লা বলেন, দলের সভানেত্রী একজন নারী। তিনি বিশ্বের ১০ জন সেরা নেতাদের একজন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কখনও কোনও মহিলা সরাসরি প্রতিদ্বদ্বিতা করেননি। কিন্তু এবার সরাসরি প্রতিদ্বন্ধিতার জন্য দলের কাছে মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন। তৃণমূল পর্যায় থেকে রাজনীতি শুরু করেছি। বিগত পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোটো ভাই মির্জা ফয়সাল আমিনের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে হেরে যায়। তবে নির্বাচনে তার পরাজয়ের পেছনে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করেন। আমি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলাম সর্বোচ্চ ভোটে। যা কোনো বিজয়ী এমপি এখন পর্যন্ত পায়নি। আশা রাখি পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে নিতে নেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিবেন।
ঠাকুরগাঁও নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য মতে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪ লাখ ২১ হাজার ৬৬২ জন। এদের মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ১০ হাজার ৯৬ ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ১১ হাজার ৫২৬। এ আসনে ১ টি পৌরসভা ও ২১ টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত।