২৮শে কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
বুধবার , নভেম্বর ১৩ ২০১৯
Breaking News
Home / জাতীয় / এনটিআরসিএ’র খেয়ালিপনায় শিক্ষকদের হতাশা ও শিক্ষার মান বিনষ্ট হচ্ছে

এনটিআরসিএ’র খেয়ালিপনায় শিক্ষকদের হতাশা ও শিক্ষার মান বিনষ্ট হচ্ছে

মোঃ ইউসুফঃ “এনটিআরসিএ” বা বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ হলো, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে শিক্ষকতায় আগ্রহীদের জন্য রেজিষ্ট্রেশন ও সার্টিফিকেট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করার পর শিক্ষক হবার স্বপ্ন বাস্তবায়ন চাইলে এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন সনদ অর্জন বাধ্যতামূলক করা হয়। এ যেন বিসিএস থেকে কোনো অংশে কম নয়। এনটিআরসিএ’র নিবন্ধন পরীক্ষা পাস করা মানে ২০০৫ সালের আইনের ৩, ৮(ক)(খ), ও ১০(২) এর ঘ অনুযায়ী নিবন্ধিত নিয়োগ যোগ্য শিক্ষক হিসেবে প্রত্যয়ন ও সনদ পাওয়া।
বিভিন্ন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০১৬ সালে
এনটিআরসিএ একটি নোটিশের মাধ্যমে সংবিধানের ২৭,২৮ ও ২৯ ধারা লঙ্ঘন করে পাশকৃত তথা নিবন্ধনকৃত শিক্ষকদের উপর উপজেলা কোটাপদ্ধতি চালু করে। অনেকের মতে উপজেলা কোটা পদ্ধতি চালু করায় মেধাকে গলা টিপে হত্যা করেছে। জানা যায় মেধা তালিকায় প্রথম হয়েও নিয়োগ পাননি এনটিআরসি’র উপজেলা কোটা প্রবর্তনের কারণে। দেশে মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে হাজার হাজার শূন্য পদ রয়েছে এনটিআরসিএ’র খেয়ালীপনার কারনে। শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ থাকায় সারা দেশে শিক্ষক সংকটে শিক্ষার পরিবেশ তথা মানসম্মত শিক্ষা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে কিছু বিষয়ে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পদ না থাকায় শিক্ষার গুনগত মান বিনষ্ট হতে চলছে।
তদুপরি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে জীববিজ্ঞানের বিষয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পড়ানোর জন্য নবসৃষ্ট পদ সৃষ্টির দাবীর পরও ওই সৃষ্টিপদে শিক্ষক নিয়োগের সার্কোলার আজও দেয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা যায় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানরা শূন্যপদে প্রতিষ্ঠানিক বেতনে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ক্লাস চালিয়ে নিচ্ছে। অপরদিকে জীববিজ্ঞানের শিক্ষক সংকটের কারণে অন্য বিষয়ের শিক্ষকদের দিয়ে ক্লাস চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এ যেন এক করুন অবস্থা। এদিকে দেশের শিক্ষা ও জনস্বার্থে শিক্ষকেরা বাধ্য হয়ে তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে মহামান্য আদালতের দারস্থ হয়ে মামলা করেন ভোক্তভোগীরা। অন্যদিকে শিক্ষা ও শিক্ষকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে গঠন করেন, “৩৫ উর্দ্ধো নিয়োগ বঞ্চিত নিবন্ধিত শিক্ষক কেন্দ্রীয় ফোরাম” নামের সংগঠন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধনও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসি)’র সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একের পর এক রিট দাখিল হতে থাকে।২০১৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর মহামান্য হাইকোর্ট দীর্ঘ শুনানির পর সাতটি নির্দেশনাসহ এক যুগান্তকারী রায় প্রধান করেন। উক্ত রায়ে উপজেলা কোটা বাতিলসহ নিবন্ধন সনদের মেয়াদ হয় সনদধারীদের নিয়োগের পূর্ব পর্যন্ত।কিন্তু দেখা যায় বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)’র চেয়ারম্যান এস এম আশফাক হুসেন উক্ত রায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বিগত ২ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে আদালতের আদেশকে তোয়াক্কা না করে নিবন্ধন সনদধারীদের উপর বয়সসীমা চাপিয়ে দিয়ে কোর্টের আদেশ অপমান্য করে। এনটিআরসিএ আদালত বন্ধ থাকাকালীন সময়ে ৪০,০০০জন শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এনটিআরসিএ’র দেয়া এ বিজ্ঞপ্তিতেও আবেদন করতে না পেরে আবারো শিক্ষকেরা উচ্চ আদালতে মামলা করতে থাকেন।
৩৫ উর্দ্ধো নিয়োগ বঞ্চিত নিবন্ধিত শিক্ষক ফোরামের সভাপতি এস এম আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে মহামান্য হাইকোর্টে পুনরায় রিট দাখিল হয় (রিট নং ১৫৭৬৭/২০১৮, ৫৫২/২০১৯ ও ১৩৯/২০১৯)।দাখিলকৃত রিটে মহামান্য হাইকোর্ট রিট পিটিশনারদের আবেদন দ্রুত গ্রহন করে নিয়োগ প্রদানের আদেশ প্রদান করেন। পর বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ১৫৭৬৭/১৮ নং রিট করা হলে, হাইকোর্ট পুর্ববতী আদেশ বহালসহ নিয়োগের নির্দেশনা দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করেন মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতিসহ ছয়জন বিচারপতিগণ। উক্ত রায়েও আইনের কাছে হেরে যায় বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। পর দায়েরকৃত ১৩৯/২০১৯ নং রিটটি ২৫ নং কোর্টে দীর্ঘ শুনানির শেষে ৩৫ উর্দ্ধোদের আবেদন গ্রহন করার নির্দেশনা দেন।এ মামলাও বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)’র চেয়ারম্যান বিপক্ষে রায় হয়।কিন্তু এতগুলো মামলার রায় বিপক্ষে যাবার পরও এনটিআরসিএ’র চেয়ারম্যানের নিরীহ অসহায় শিক্ষকদের প্রতি একটুও মন গলেনি।

প্রশ্নহলো, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার নোটিশে তো এনটিআরসিএ সর্বোচ্চ বয়স সীমা নির্ধারণ করা হয়না। তাহলে কোন যুক্তি বা কোন স্বার্থে দেশের হাজার হাজার নিবন্ধিত শিক্ষকদের বয়সের অজুহাতে নিয়োগ বঞ্চিত করে চলছে?এটা এখন ভাববার বিষয়।আদালতের আদেশকে অমান্য করে নিবন্ধিত ৩৫ উর্দ্ধো বয়সের শিক্ষকদের নিয়োগ বঞ্চিত করতে চলেছে। কেনইবা দেশের হাজার হাজার শিক্ষকদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলা খেলে শিক্ষার মান বিনষ্ট করছে। এ যেন শিক্ষক নয় তথা গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ষড়যন্ত্র করে ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এটাও মনে রাখা দরকার, দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বন্ধ থাকায় ধীরে ধীরে এনটিআরসিএ’র নিবন্ধননারী শিক্ষকদের বয়স আরও বাড়তে থাকে। তাই প্রয়োজন ৩৫ উর্দ্ধো নিবন্ধনধারীদের জন্য বিশেষ
বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নবসৃষ্ট জীববিজ্ঞান পদসহ অন্যান্য পদে শিক্ষক নিয়োগ করা।দ্রুত শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন জরুরী মনে করেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
এ নিয়ে “৩৫ উর্দ্ধো নিয়োগ বঞ্চিত নিবন্ধিত শিক্ষক কেন্দ্রীয় ফোরাম” এর সভাপতি এস এম আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সরকারের উচিত
৩৫উর্দ্ধো নিবন্ধনধারীদের জন্য বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নবসৃষ্ট পদসহ অন্যান্যপদে শিক্ষক নিয়োগ প্রদান করে বিষয়টি সুরাহা করা।

Facebook Comments

Check Also

অবস্থান কর্মসূচিতে বদলির দাবিতে অনশনের হুমকি-শিক্ষা খবর

প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন ও বদলি ব্যবস্থা চালুর দাবিতে আজ শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের পদযাত্রা ও …

বদলির দাবিতে শিক্ষকরা মাঠে নামছেন কাল-দৈনিক শিক্ষা খবর

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষকদের বদলি ব্যবস্থা চালুর দাবিতে ও আগামী গনবিজ্ঞপ্তির আগে ইনডেক্সধারীদের বিভাগীয় প্রার্থী হিসেবে …

এমপিওভুক্ত মাদ্রাসা, ভোকেশনাল, স্কুল, কলেজের তালিকা

সারাদেশের ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার (২৩ অক্টোবর) গণভবন …

মাধ্যমিক স্তরে এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের পূর্ণাঙ্গ তালিকা

সারাদেশের ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী …