৭ই বৈশাখ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
শনিবার , এপ্রিল ২০ ২০১৯
Breaking News
Home / ইসলাম / ইসলামের দৃষ্টিতে সকল প্রকার দিবস পালন করা সুস্পষ্ট হারাম

ইসলামের দৃষ্টিতে সকল প্রকার দিবস পালন করা সুস্পষ্ট হারাম

ইসলামি ডেস্কঃ বর্তমান যুগে আমরা স্বাধীনতা দিবস, মাতৃভাষা দিবস, বিজয় দিবস, জন্ম দিবস, মৃত্যু দিবস, মা দিবস, বাবা দিবস, ভালোবাসা দিবস ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার দিবস পালন করে থাকি। অথচ ইসলামী শরীয়ত কোন দিবস পালন করা সমর্থন করে না। ইসলামী শরীয়ত যদি দিবস পালন করা সমর্থন করতো তাহলে ৩৬৫ দিনের কোন না কোন একটা দিনকে দিবস হিসেবে পালন করা হতো। ইসলামী ইতিহাস তালাশ করলে আপনি দেখতে পাবেন কত শত স্বরণীয় দিন আছে যেগুলো বর্তমান যুগের দিবসের তুলনায় শত শত গুণ বেশী মর্যাদাসম্পন্ন। অথচ নবী যুগ থেকে সাহাবাদের যুগ অর্থাৎ যে যুগকে সর্বশ্রেষ্ঠ যুগ বলা হয় তাদের কোন যুগে এমন কোন ইতিহাস নেই যে, তারা দিবস পালন করেছেন।

.

আজ আমরা বিভিন্ন ধরনের দিবস পালন করার মাধ্যমে ইসলাম বিরোধী কাজ তথা হারাম কাজে লিপ্ত হচ্ছি। দিবস পালন করা হারাম হওয়ার অনেকগুলো কারণ আছে। প্রথম কারণ হচ্ছে ইসলামে দুটি দিবস ব্যতীত অন্য তৃতীয় কোন দিবস পালন করা নিষেধ। হযরত আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনায় পৌঁছে দেখতে পান সেখানকার অধিবাসীরা বছরে দুই দিন খেলাধুলা (আনন্দ উৎসব) করে থাকে। তিনি তাদের এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তারা বলে, জাহিলিয়াতের যুগে আমরা এ দুই দিন খেলাধুলা করতাম। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আল্লাহ তোমাদের এ দুই দিনের পরিবর্তে অন্য দুটি উত্তম দিন দান করেছেন। তা হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। [আবু দাউদ, ১/৪৪১]

.

এই হাদীসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন ঐ দুটি দিনের পরিবর্তে আল্লাহ তোমাদেরকে দুটি উত্তম দিন প্রদান করেছেন। এখানে যদি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন তোমাদের ছিল দুটি দিন আর আল্লাহ তোমাদেরকে দিয়েছেন আরো দুটি দিন, তাহলে মুসলিমরা ১৪০০ বছর যাবৎ ৪টি উৎসবের দিন পালন করে আসতো। যেহেতু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যান্য মানবরচিত দিনগুলো পরিবর্তন করে আল্লাহর পক্ষ থেকে দুটি উত্তম দিন প্রদান করেছেন সেহেতু অন্য যে কোন দিবস পালন করা এমনেতেই বাতিল হয়ে যায়।

আর বর্তমানে এ দিবস গুলোতে কি হচ্ছে তা প্রতিটি বিবেকবাণ লোক দেখছে। এ দিবসগুলোতে আনন্দের নাম করে বড়রা বেয়াপনা করছে আর ছোটদের শিখাচ্ছে। এ ভাবে চলতে থাকলে সমাজে এমন অবক্ষয় সৃষ্টি হবে তা কল্পনাও করা যাবে না। তাই ইসলাম অনুস্মরণ করে এ সকল দিবস পালন হতে বিরত থাকা খুবই জরুরী।

তাই মুসলিমদের জন্য অন্য কোন প্রকার দিবস পালন করা বৈধ নয়। হোক সেটা জন্ম দিবস, শোক দিবস, মাতৃভাষা দিবস, বিজয় দিবস, নববর্ষ ইত্যাদি যা-ই হোক না কেন, তা পালন করা বৈধ হবে না।

.

দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে এ ধরণের যত প্রকার দিবস রয়েছে সেগুলোর কোনটাই মুসলিমদের সংস্কৃতি নয়। যদি এগুলো মুসলিমদের সংস্কৃতি হতো তাহলে এগুলো সাহাবাদের যুগ থেকেই পালিত হয়ে আসতো। তাই যেহেতু এগুলো মুসলিমদের সংস্কৃতি নয় তাহলে বুঝাই যাচ্ছে যে, এগুলো কাফের মুশরিক বিজাতীয়দের সংস্কৃতি থেকে এসেছে। আর এ প্রসঙ্গে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল বা সাদৃশ্য রাখবে সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত হবে। [আবু দাউদ, হাদীস নং ৪০৩১]

আর সবচেয়ে বড় কারণ যেটা সেটা হলো, এই দিন সমূহকে কেন্দ্র করে অনেক ধরনের শিরকি কর্মকাণ্ড করা হয়ে থাকে। যেমনঃ শহীদ মিনারে ফুল দেওয়া ইত্যাদি। তাই অনেক উলামায়ে কিরাম কিছু কিছু দিবস পালন করাকে শিরকও বলেছেন। তাই আর বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিজাতীয়দের সংস্কৃতি বর্জন করা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ওয়াজিব। অতএব মুসলিমরা যদি জান্নাতের আশা করে এবং জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচতে চায় তাহলে তারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে ফিরে আসুক। কেউ এরপরও এ দিবস পালন করিলে করিবে পাপ তার হবে আমি শুধু মাত্র ইসলামের কথা গুলো বলিম।

Check Also

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর ইতিহাসের অন্যতম মুসলিম বীর ওমর মুখতারের মৃত্যুবার্ষিকী

আজ ১৬ সেপ্টেম্বর ইতিহাসের অন্যতম মুসলিম বীর ওমর মুখতারের মৃত্যুবার্ষিকী লিবিয়ার ওমর আল মুখতার যাকে …

কুরবানী কি, কেন? সংক্ষিপ্ত ইতিহাস (শেয়ার করুন)

প্রতিবছর আমরা মুসলমানেরা  কুরবানী পালন করি কিন্ত কুরবানী সম্পর্কে কত টুকু জানি? তাই সকলের জানা …

হজ্জ্ব কি, কেন? গুরুত্ব ও তাৎপর্য :

হজ্জ্ব ইসলাম ধর্মাবলম্বী মুসলমানদের জন্য একটি আবশ্যকীয় ইবাদত বা ধর্মীয় উপাসনা। এটি ইসলাম ধর্মের পঞ্চম …

ঈদে কোন কোন পশু দিয়ে কুরবানী করবেন ও কুরবানী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য :

ঈদে কোন কোন পশু দিয়ে কুরবানী করবেন ও কুরবানী সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য : গরু, ছাগল, …

Leave a Reply

Your e-mail address will not be published.

5 × 2 =