২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার , সেপ্টেম্বর ১৭ ২০১৯
Breaking News
Home / জাতীয় / আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা চায় এম,পিও,ভুক্ত শিক্ষক সমাজ….

আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা চায় এম,পিও,ভুক্ত শিক্ষক সমাজ….

আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা চায় এম,পিও ভুক্ত শিক্ষক সমাজ,,,,,,,,

শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড, শিক্ষা ছাড়া কোন জাতি উন্নতি লাভ করতে পারেনা, “যে জাতি যত বেশী শিক্ষিত সে জাতি তত বেশী উন্নত।” এসব প্রবাদগুলো যাকে ঘিরে রচিত হয়েছে তিনি হলেন “শিক্ষক”। শত শত বছর ধরে শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। শিক্ষাগুরু হিসেবে শিক্ষকরা দেশ, সমাজ ও জাতির কাছে নমস্য ব্যক্তি।
শিক্ষকেরা কী করেন? বাচ্চারা স্কুলে যেতে শুরু করার পর থেকেই শেখানো হয়, সে কিভাবে সমাজে চলাফেরা করবে, বড়দের সাথে কেমন ব্যবহার করবে। বাবা-মায়ের পরেই যেন শিক্ষকের অনেক বড় দায়িত্ব প্রতিটি শিক্ষার্থীদের প্রতি!
একটি শিক্ষার্থীর যে মেধা সেটাকে বিকাশ করানোর দায়িত্ব নিচ্ছেন একজন শিক্ষক। তাকে বড় বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহী করছেন একজন শিক্ষক। তার স্বপ্ন গুলোকে বাস্তবায়িত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। একটি শিক্ষিত জাতি গড়ছেন একজন শিক্ষক!
এতোগুলো দায়িত্ব একজন শিক্ষকের। তাঁর প্রকৃত মূল্যায়ন করা কি সম্ভব হচ্ছে? যিনি একটি সুষ্ঠু জাতি গড়ে তুলছেন, যার কাছে আমরা সারাজীবন ঋণী হয়ে থাকছি তাঁকে আসলে কিভাবে প্রকৃত মূল্যায়ন করতে পারি আমরা?
জানি আমরা তাঁদের প্রকৃত মূল্যায়ন কোনো কিছু দিয়েই করতে পারব না। তবুও তাঁদেরকে সম্মানী হিসেবে কিছু প্রদান করা হয়, তাঁদের সেই মহান কাজের জন্য। কিন্তু তাঁদের সম্মানী হিসেবে যা প্রদান করা হচ্ছে তা কতটা যথাযথ? কি কারণে সর্বোচ্চ মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় আসছেন না আমাদের দেশে? মেধাবীরা কেন অন্য পেশা বেঁছে নিচ্ছেন?
অথচ উন্নত দেশ গুলোতে সর্বোচ্চ স্থানে আছে শিক্ষকতা পেশা! সবচেয়ে বেশি সম্মানী তাঁদের প্রদান করা হয়ে থাকে। আর সবচেয়ে মেধাবীরাই যাচ্ছেন শিক্ষকতা পেশায়! কিছু উন্নত দেশের শিক্ষক মূল্যায়নের তথ্য দেখে নিতে পারি আমরা। টপ চারটি দেশ সবচেয়ে বেশি বেতন দিচ্ছেন শিক্ষকদের।
উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়-
১. লাক্সেমবার্গ এ প্রাইমারী স্কুলের একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে, বছরে ৬৪,০০০ ইউ এস ডলার পেয়ে থাকেন। এবং শিক্ষকতার ১৫ বছর পরে, ৯৮,০০০ ইউ এস ডলার পান।

২. সুইজারল্যান্ডে একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে বছরে ৪৭,৫০০ ইউ এস ডলার পেয়ে থাকেন। এবং শিক্ষকতার ১৫ বছর পরে ৬৯,০০০ ইউ এস ডলার পান।

৩. জার্মানে স্কুলের একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে বছরে ৪৭,৫০০ ইউ এস ডলার পেয়ে থাকেন। এবং শিক্ষকতার ১৫ বছর পরে, বছরে ৬৪,০০০ ইউ এস ডলার পান।

৪. নেদারল্যান্ড স্কুলের একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষকতা জীবনের শুরুতে বছরে ৩৬,০০০ ইউ এস ডলার পেয়ে থাকেন। এবং শিক্ষকতার ১৫ বছর পরে, বছরে ৬০,০০০ ইউ এস ডলার পান।

শুধু তাই নয় সম্মানের দিক থেকেও শিক্ষকেরা অনেক এগিয়ে আছেন। উদাহরণ স্বরূপ দেখা যায়- শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা নিয়ে ২০১৩ সালে গবেষণা করে ভার্কি ফাউন্ডেশন। গবেষণায় দেখা যায়, এশিয়ার দেশগুলোর সমাজ কাঠামোয় বিশেষ করে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুরে শিক্ষদের বৃহৎ সম্মানের চোখে দেখা হয়

  • চিনাদের মধ্যে ৫০ ভাগ বাবা-মা তাদের বাচ্চাদের শিক্ষক হওয়ার ব্যাপারে উৎসাহ দেন।
    আমেরিকায় শতকরা ৩০ ভাগ বাবা-মা শিক্ষক হতে উৎসাহ দেন।

কিন্তু সম্প্রতি Center for Educational Research রিসার্চ নামের একটি শিক্ষা গবেষণা মূলক প্রতিষ্ঠানের ৩৫৫ জন গার্ডিয়ানদের এক জরিপে জানা যায় শতকরা ৬৫ ভাগ বাবা-মা এবং তাদের সন্তানরা চান না শিক্ষকতা পেশায় যেতে। এদের মধ্যে বেশিরভাগের ইচ্ছা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার কিংবা বিসিএস ক্যাডার(প্রশাসনিক কর্মকর্তা)র দিকে। তাদের মাঝে শতকরা ৩০ ভাগ এখনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি কিংবা ভাগ্যের ওপর নির্ভর করছেন। শুধুমাত্র শতকরা ৩ ভাগ বাবা-মায়েরা এবং তাদের সন্তানরা চান শিক্ষক হতে। শিক্ষক হতে না চাওয়ার কারণ হিসেবে তারা দেখিয়েছেন সমাজের শিক্ষকদের মর্যাদা হ্রাস এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা।
আর এইসব অনিশ্চয়তাকে ঘিরে আমরা মেধাবীদের শিক্ষকতায় আনতে পারছি না। যেখানে শিক্ষকের স্থান সর্বোচ্চ স্থানে হওয়া উচিত ছিল। শিক্ষকরাই যেহেতু জাতি গড়ার কারিগর তাই তাঁদেরকে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা এবং সম্মান দেয়া আমাদেরই দায়িত্ব।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে এবং উন্নত দেশ বিনির্মানে আমাদের দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষকদের সামাজিক ও আর্থিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা এখন রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য বলে আমি মনে করি।

আর এটা বর্তমান সময়ের সাহসী ও জনপ্রিয় নেত্রী, মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা, সকল শিক্ষা ব্যবস্থা একযোগে জাতীয়করণের ঘোষণা করবেন এবং সেই সাথে শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় তিনি যথাযথ ভূমিকা পালন করে
জাতির জনকের স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে চির স্মরনীয় ও বরনীয় হয়ে রইবেন পুরো শিক্ষক সমাজের হৃদয়ের মনিকোঠায় তো বটেই সেই সাথে ১৮ কোটি বাঙালীর হৃদয় গহীনে এই প্রত্যাশা শিক্ষক সমাজের। শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ স্লোগানের যথার্থতা পাবে উল্লেখিত কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে।এই প্রত্যাশা রেখে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুসাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে শেষ করছি।

মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন (আপন)
সহকারী প্রধান শিক্ষক।

সাধারন সম্পাদক,
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি চট্টগ্রাম বিভাগ।

Facebook Comments

Check Also

ভূরুঙ্গামারীতে ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

অাজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ ভূরুঙ্গামারীর একটি ক্লিনিকে একজন ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। ডেঙ্গু জ্বরে …

ভূরুঙ্গামারীতে মৌলিক সাক্ষরতা প্রকল্পের হ-য-ব-র-ল অবস্থা

অাজিজুল হক, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ “শিক্ষা নিয়ে গড়বো দেশ,  শেখ হাসিনার বাংলাদেশ”- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে …

ডেঙ্গু জ্বর থেকে পরিত্রানের সহজ উপায়ঃ

ডেঙ্গু জ্বর থেকে পরিত্রানের উপায়ঃ এডিস মশার কামড়েই ডেঙ্গু জ্বর হয়ঃ এডিস মশা আমাদের হাটুর সমপরিমান পর্যন্ত উড়তে পারে। তাই এরা সাধারনত হাটুর নীচে কামড়ায়। নারকেল তেলের গন্ধ এডিস মশা পছন্দ করেনা,তাই আমাদের হাটুর নীচ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত নারকেল তেল মেখে রাখলে এডিস মশা প্রতিশেধক হিসেবে কাজ করবে। এডিস মশা সাধারনত ভোর বেলা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কামড়ায়। এই কথা গুলি ডা: বি সুকুমার,শ্রী সাইসুধা হাসপাতাল,ইন্ডিয়া থেকে শেয়ার করেছেন। এই ম্যাসেজ টি শেয়ার করুন যেনো সকলে উপকৃত হতে পারে।ধন্যবাদ।

ভূরুঙ্গামারীতে মাছ শিকারীর জালে বিলুপ্ত প্রজাতীর শুশুক অাটকঃ অবশেষে মৃত্যু

অাজিজুল হক,কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃকুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জালে আটকা পড়ে প্রায় বিলুপ্ত প্রজাতির একটি শুশুকের মৃত্যু হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে …

Skip to toolbar