Wed. Jan 22nd, 2020

দৈনিক শিক্ষা খবর

আন্দোলন বনাম জাতীয়করণ:

দৈনিকশিক্ষাখবরঃ দেশ স্বাধীনের  ৪৮ বছরেও এদেশের সকল শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের মর্যাদা লাভ করতে সামর্থ্য হয় নাই!এ দায় কি শুধু মাত্র সরকাররের নাকি এদায় কর্মরত সকল শিক্ষক-কর্মচারীর উপরেও বর্তায়?

এদেশে এম,পি,ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয় বেতন-স্কেলের অর্ন্তভুক্ত হয়েছে প্রায় চার দশক আগে। এই চার দশকে অনেক প্রাপ্তি,অর্জনও আছে সেই সাথে আছে পাহাড়সম বৈষম্য।যে বৈষম্যের বোঝা মাথায় নিয়ে বেসরকারী শিক্ষক সমাজ আজ বিভিন্ন কর্ম-কান্ডে সম্মানের পরিবর্তে পাচ্ছে শুধু অবহেলা, অসম্মান, নির্যাতন, নিপীরণ আরো কতো রকম উপহার সারাদিন লিখলেও তা শেষ হবার নয়!

আর সকল বৈষম্যের জন্য আমরা নিজেরাও যে কম দায়ী নই তা আর বলার অবকাশ রাখে না।

রেজিস্টেশন কৃত প্রাথমিক বিদ্যালয় মাত্র দুই দশক সময়ের মধ্যে জাতীয়করণ আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছেন সাথে সাথে তারা তাদের চাকরীর গ্রেডও উন্নীত করেছেন এবং এখনও গ্রেড আরো উন্নীতকরণের কাজ অনেকাংশে এগিয়ে নিতেও সক্ষম হয়েছেন।কিন্তু আমরা কেনো পারছি না। কারণ হিসবে আমার কাছে অন্যতম প্রধান হচ্ছে, আমরা নিজেদের স্বার্থে আজও এক হতে পারি নাই। 

আমাদের সাধারন শিক্ষকদেরকে ও বুজতে হবে শুধু নেতাদের উপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না, নিজের অধিকার অন্যকেউ আদায় করে দিতে পারে না, নিজের অধিকার নিজেই আদায় করে নিতে হয়।শিক্ষা জাতীয়করণের স্বার্থে আমরা সকল শিক্ষক সমাজ যদি একটি পতাকা তলে এসে কর্মসূচী দিতে পারি তাহলে আমাদের প্রাণের দাবি জাতীয়করণ হতে বাধ্য।

আমাদের অনেক শিক্ষক নেতা আছেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে তাদের ইগোয় বাধে,কে কাকে আগে বলবে, আগে বললে মনে হয় মান-সম্মান বলে কিছুইসব থাকবে না!  আসলে কি তা ঠিক? সকল ইগো ধুয়ে মুছে আসুন আমরা সবাই একই পতাকা তলে এসে আমাদের প্রাণের দাবি জাতীয়করণ আদায় করি।

আবার কিছু শিক্ষক নেতা আছেন, ভাবছেন জাতীয়করণ হলে তাদের আর মূল্যায়ণ থাকবে না, শিক্ষরা তাদের আর বস বস করবেন না, তাই তারা নেতা  সেজে জাতীয়করণের আন্দোলনকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার চক্রান্ত করছেন! তাই বলছি এখনো সময় আছে আসুন সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করে আমরা আমাদের নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তুলি।সকল বৈষম্য রুখে দিই।

আমাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নকে স্বার্থক করা আমাদের নিরাপত্তার জন্য খুব জরুরী। তাই সেই দাবী 
পূরণ কার নেতৃত্ব হবে সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে আমাদের দাবী পূরণ হওয়া প্রয়োজন। 

তাই আমি একজন সাধারন শিক্ষক হিসেবে সকল শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ও সকল শিক্ষকে অনুরোধ করছি আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সফল আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের মাধ্যমে জসতীয়করণ ছিনিয়ে নিই। ভুল-ত্রুটি ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানিয়ে শেষ করছি।

জয় বাংলা                         জয়বঙ্গবন্ধু।

মোহাম্মদ মোকাররম হোসেন(আপন),
সাধারণ সম্পাদক,
বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি(নজরুল),
চট্টগাম বিভাগ।