দৈনিক শিক্ষা খবর

আগামি কাল এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামীকাল সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) থেকে। চলতি বছর ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের জন্য তা পেছানো হয়।বোর্ডগুলোতে পরীক্ষা পরিচালনার প্রস্তুতি প্রায় শেষ ।

আগামীকাল সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে এসএসসি পরীক্ষা। আর ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হবে। দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। 

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিতব্য দাখিল পরীক্ষা ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ১ মার্চ পর্যন্ত চলবে। ৮ মার্চের মধ্যে দাখিলের ব্যবহারিক পরীক্ষা নিতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে ৩ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষা। ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেয়া হবে। ৭ মার্চ থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বাস্তব প্রশিক্ষণ। 

চলতি বছর ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৯৯ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে। গতবছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন। এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার্থী কমেছে সাড়ে ৮৭ হাজার। গত বছরের থেকে চলতি বছর ৪৬ হাজার ৭৮জন ছাত্র ও ৪১ হাজার ৪৭৬ জন ছাত্রী কমেছে।

জানা গেছে, ১৬ লাখ ৩৫ হাজার ২৪০ জন পরীক্ষার্থী চলতি বছরের এসএসসি, ২ লাখ ৮১ হাজার ২৫৪ জন পরীক্ষার্থী দাখিল এবং ১ লাখ ৩১ হাজার ২৮৫জন শিক্ষার্থী এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নেবে। 

চলতি বছর ৭ লাখ ৯১ হাজার ৯১৮ জন ছাত্র ও ৮ লাখ ৪৩ হাজার ৩২২ জন ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিবে। এ বছর ছাত্রদের তুলনায় ৫১ হাজার ৪০৪ জন ছাত্রী এসএসসি পরীক্ষা দেবেন। ১৭ হাজার ৪৮২ টি স্কুল থেকে এসব শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষা দেবে। 

দাখিল পরীক্ষায় ২ লাখ ৮১ হাজার ২৫৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এদের মধ্যে ছাত্র ১ লাখ ৩৪ হাজার ১৩৮ জন আর ছাত্রী ১ লাখ ৪৭ হাজার ১১৬ জন। ৯ হাজার ১১০টি মাদরাসা থেকে এসব শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষা দেবে। দাখিলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রী সংখ্যা বেশি ১২ হাজার ৯৭৮জন।  

এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষার্থী সংখ্যা ১লাখ ৩১ হাজার ২৮৫ জন। এদের মধ্যে ৯৮ হাজার ৩০৭ জন আর ছাত্রী ৩২ হাজার ৯৭৮ জন। ২ হাজার ২৯২ টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান থেকে এসব শিক্ষার্থী এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষায় অংশ নেবে। 

ইতোমধ্যে শিক্ষা বোর্ডগুলো থেকে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের অ্যাডমিট কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা তা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করবেন। 

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা পরিচালনায় শিক্ষা বোর্ডগুলো, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যজিস্ট্রেটদের ছয় দফা নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।  নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে এসএসসি, দাখিল এবং এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অনিবার্য কারণে কোনো শিক্ষার্থী দেরি করে কেন্দ্রে আসলে রেজিস্ট্রারের নাম, ক্রমিক নং ও বিলম্বের কারণ উল্লেখ করতে হবে। দেরি আসা পরীক্ষার্থীদের তালিকা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে জানাবেন কেন্দ্র সচিব।

কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কেউ পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোন বা অননুমোদিত ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। কেন্দ্র সচিব ছবি তোলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাবিহীন একটি সাধারণ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। অননুমোদিত মোবাইল ফোন বা ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে।

এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার প্রত্যেক কেন্দ্রে একজন নির্বাহী কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেট (ট্যাগ অফিসার) নিয়োগ দিতে হবে। তারা ট্রেজারি বা থানা থেকে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা তার প্রতিনিধিসহ প্রশ্ন গ্রহণ করে পুলিশ প্রহরায় পরীক্ষা কেন্দ্রে নিয়ে যাবেন। নির্বাহী কর্মকর্তা বা ম্যাজিস্ট্রেটের (ট্যাগ অফিসার) উপস্থিতি ছাড়া প্রশ্ন বের করা যাবে না বলেও পরিপত্রে বলা হয়। 

ট্রেজারী বা নিরাপত্তা হেফাজত থেকে পরীক্ষা কেন্দ্র এমসিকিউ, রচনামূলক বা সৃজনশীল প্রশ্নের সব সেট প্রশ্নই নিতে হবে। সেট কোড পরীক্ষা শুরুর ২৫ মিনিট আগে জানিয়ে দেয়া হবে। সে অনুযায়ী নির্ধরিত সেটকোডে পরীক্ষা নিতে হবে। কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ট্যাগ অফিসার) এবং পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে এবং স্বাক্ষর দিয়ে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট খুলতে হবে।

এছাড়া এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি দাখিল ভোকেশনাল পরীক্ষার সময় ও এর আগে বা পরে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজের সময় কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ছাড়া অন্যদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এসময় পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশকারী অননুমোদিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।    

কোনো কারণে পরীক্ষা দেরিতে শুরু করতে হলে যত মিনিট পরে পরীক্ষা শুরু হবে পরীক্ষার্থীদের সেসময় থেকে যথারীতি প্রশ্নপত্রে উল্লেখিত নির্ধারিত সময় দিতে হবে।

এদিকে ঢাকার গাজীপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মাধ্যমিক ও দাখিল ২০২০ খ্রিষ্টাব্দের পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের প্রচার চালানোয় এক কলেজছাত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে মহানগরীর বাসন থানার ইটাহাটা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মো. সোহেল হোসেন আমান (২০) বগুড়ার ধুনট থানার এলাঙ্গী এলাকার মো. শহীদুল হকের ছেলে ও ভাওয়াল বদরে আলম কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র। শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে তাকে।

গাজীপুর মহানগরীর বাসন থানার পরিদর্শক নন্দলাল চৌধুরী দৈনিক শিক্ষাডটকমকে জানান, সম্প্রতি ‘নাহিয়ান সানভি’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে ২০২০-এর মাধ্যমিক ও দাখিল পরীক্ষার মূল বোর্ড প্রশ্নের কপি আগাম প্রদান করা হবে বলে প্রচারণা চালানো হয়। এতে একটি মোবাইল নম্বর ও একটি বিকাশ একাউন্ট নম্বর উল্লেখ করে তাতে বলা হয়েছে ‘এসএসসি পরীক্ষার-২০২০-এর প্রশ্ন যাদের লাগবে তারা দ্রুত ম্যাসেজ দাও। অল বোর্ড ১০০% প্রশ্নের মূলকপি সরবরাহ করা হবে। দাখিল পরীক্ষা-২০২০-এর ১০০% প্রশ্ন যাদের লাগবে তারাও বিকাশে টাকা পাঠিয়ে ইনবক্স-এ যোগাযোগ করুন। এসব প্রশ্ন নিতে হলে রিয়েল আইডি দিয়ে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠিয়ে ম্যাসেজ দাও’।

পরে মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে এবং ওই আইডির ব্যবহারকারী আমানকে শুক্রবার রাতে ইটহাটা এলাকার মিলন হোসেন ভাড়া বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও জানান, সোহেল জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছে, নাহিয়ান সানভি নামের ফেসবুক আইডিটির ব্যবহারকারী সে নিজেই। পোস্টের উল্লেখিত লেখাটিও তার নিজের। বিকাশ একাউন্টও তার। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে প্রশ্নপত্র প্রদানের কথা বলে টাকা হাতিয়ে নেয়াই ছিল তার মূল উদ্দেশ্য।